নীলফামারী: নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইটাখোলা গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ। তিনি ২০২৪ সালে করা একটি হত্যা মামলার আসামি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তাকে আদালতে হাজির করে জেল হাজতে পাঠানো হবে।
তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নীলফামারী জেলা পর্যায়ের নেতা এবং জেলা কৃষক লীগ-এর সহ সভাপতি ছিলেন। একাধিক হত্যা ও নাশকতা মামলার পলাতক আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, হেদায়েত আলী শাহ ফকির বিগত আওয়ামী লীগের আমলে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর-এর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রকাশ্যে বিরোধী দলীয় এজেন্টদের ওপর হামলা চালিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেন এবং কেন্দ্র জুড়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারার উৎসব শুরু করেন।
এছাড়া, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার বহু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পতিত সরকারের সময় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নীলফামারী সদরের রামগঞ্জ বাজার এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত ও ভয়াবহ ‘রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি’ হত্যাকাণ্ডেও হেদায়েত আলী শাহ ফকির প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনায় অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে আসামি করে বছরের পর বছর জেল, রিমান্ড ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হন।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়, ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের ঘটনায়ও তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওইদিন জেলা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, রাজনৈতিক কার্যালয় ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর হেদায়েত আলী শাহ ফকিরসহ একাধিক আওয়ামী সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হয়।
হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের বিরুদ্ধে রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি হত্যা মামলা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, ৪ আগস্ট জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের অভিযোগে মামালা দায়ের করে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অন্যান্য সহিংসতা ও নাশকতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।