রংপুর: রংপুর নগরীর খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে লেবু, শসা, রসুন, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচসহ রমজানে প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি সবজি ও মশলার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ডিম চাল-ডাল, আলু ও সয়াবিন তেলসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও মাছের দাম বেড়েছে। ভোক্তারা আশা করছেন, সরকারি মনিটরিং বাড়লে এ অস্থিরতা কমবে। আর ভোক্তা অধিকার বলছে, রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রংপুর নগরীর ধাপ, মুলাটোল আমতলা, সিটি বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান, তাই ইফতারের জনপ্রিয় উপকরণ বেগুন, লেবু, শসা, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। আমদানি ও স্থানীয় সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি
খুচরা বাজারে লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি (গত সপ্তাহে ৩০-৪০ টাকা), গোল বেগুন ৭০-৮০ টাকা (গত সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকা), কাঁচামরিচ ১২০-১৪০ টাকা (গত সপ্তাহে ১১০-১২০ টাকা), পেঁয়াজ ৫৫-৬০ টাকা (গত সপ্তাহে ৪৫-৫০ টাকা), লেবু হালি ৫০-৬০ টাকা (গত সপ্তাহে ৩০-৪০ টাকা)।
শসা ৬০-৭০ টাকা (গত সপ্তাহে ৫০-৬০ টাকা), শিম ৩০-৪০ টাকা (গত সপ্তাহে ২৫-৩০ টাকা), পেঁপে ৩০-৩৫ টাকা (গত সপ্তাহে ২৫-৩০ টাকা), মিষ্টি কুমড়া ৪০-৫০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, মুলা ২৫-৩০ টাকা, ফুলকপি ২০-২৫ টাকা, বাঁধাকপি ১৫-২০ টাকা পিস, চালকুমড়া ৫০-৬০ টাকা, কাঁচকলা হালি ২৫-৩০ টাকা, দুধকুষি ৫০-৬০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা, করলা ১৫০-১৬০ টাকা, লাউ ৪০-৫০ টাকা, ধনেপাতা ৩০-৪০ টাকা এবং শাকের আঁটি ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মশলা ও অন্যান্য
দেশি আদা ১৪০-১৫০ টাকা (অপরিবর্তিত), দেশি রসুন ১৪০-১৫০ টাকা (গত সপ্তাহে ১০০-১২০ টাকা), আমদানি রসুন ২২০-২৪০ টাকা (অপরিবর্তিত), আলুর দাম স্থিতিশীল; আলুর বিভিন্ন জাতের মধ্যে কার্ডিনাল ও সাদা ১৫-২০ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি ২৫-৩০ টাকা, শিল ৩৫-৪০ টাকা, ক্যারেজ ১৫-২০ টাকা, ঝাউ ৩০-৪০ টাকা।
মাংস-ডিম ও মাছ
ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি ৩০০-৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৮০-৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০-৬০০ টাকা (সামান্য বাড়তি)। গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা, খাসির মাংস ১১০০ টাকা (অপরিবর্তিত)। পোলট্রি ডিমের হালি ৩৪-৩৫ টাকা (অপরিবর্তিত)।
তবে মাছের দাম অস্থিতিশীল। ৩৫০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৮০০-৯০০ টাকা, মৃগেল ৩০০-৩৫০ টাকা, কার্পু ৩০০-৩৬০ টাকা, পাঙাশ ২৫০-৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-৩০০ টাকা, কাতল ৩৫০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০-৫০০ টাকা, গছি ৮০০-১২০০ টাকা।
তেল-ডাল-চালের দাম
বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা লিটার, খোলা ১৯০-২১০ টাকা (অপরিবর্তিত)। মসুর ডাল (চিকন) ১৭০-১৮০ টাকা (গত সপ্তাহে ১৫০-১৬০ টাকা), মাঝারি ৯০-১০০ টাকা, মুগডাল ১৫০-১৬০ টাকা, বুটের ডাল ১১০-১২০ টাকা। খোলা চিনি ১০৫-১১০ টাকা, ছোলাবুট ৯০-১০০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫ টাকা, খোলা আটা ৪৫-৫০ টাকা, ময়দা ৬৫-৭০ টাকা। চাল: স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৬০ টাকা, বিআর২৮ ৬৫-৭০ টাকা, বিআর২৯ ৬০-৬৫ টাকা, জিরাশাইল ৭০-৭৫ টাকা, মিনিকেট ও নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা (অপরিবর্তিত)।
সিটি বাজারের সবজি বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘রমজানে বেগুন, পেঁয়াজ, শসা, লেবুর চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। সরবরাহ কম, তাই দাম বেড়েছে। কাঁচামরিচ ও রসুনেও একই প্রভাব পড়েছে।’
লালবাগ বাজারের মুরগি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ‘দেশি মুরগির সংকট দেখা দিয়েছে, তাই দাম সামান্য বাড়তি।’
সিটি বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল হাই প্রধান বলেন, আশা করছি সরকারি মনিটরিং বাড়লে এ অস্থিরতা কমবে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সতর্ক নজরদারির দাবি জানিয়েছেন আব্দুল হাই প্রধানদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিদিনই বাজারে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে। নিত্যপণ্য, ফল, সবজি থেকে শুরু করে মাছ বাজার পর্যন্ত দাম, মান ও প্রতারণা তদারকি করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলবে বলে তিনি সাফ জানিয়েছেন।