কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছে প্রথম স্ত্রীর সন্তানেরা। এতে দীর্ঘ সময় বাড়ির উঠানে পড়ে থাকে বাবার মরদেহ। মৃত্যুর একদিন পর এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে মরদেহ পৌরসভার পয়ড়াডাঙ্গা বাজার এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ওই এলাকার বাসিন্দা আজিজার রহমান (৭৫) বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরদিন বুধবার সকাল ১১টায় জানাজা অনুষ্ঠানের জন্য এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু বৃদ্ধের দুই স্ত্রীর সন্তানদের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পারিবারিক কলহের কারণে আজিজার রহমানকে দাফন করতে বাধা পান স্থানীয়রা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে আজিজার রহমানের প্রথম স্ত্রী জয়গুন মারা যান। সে সময় তার ঘরে এক ছেলে আব্দুল হাকিম (৫৫) ও তিন মেয়ে জোসনা, ময়না ও কাছুয়া রয়েছেন। পরে রহিমা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি।
দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে টাইগার (৩৩) ও এক মেয়ে আকলিমা (৩০) জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের দাবি জীবদ্দশায় আজিজার রহমান তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি তাদের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এলাকাবাসী জানাজায় অংশ নিতে এলে প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা দাফনে আপত্তি জানান। তাদের দাবি, বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি সমানভাবে বণ্টন ও প্রয়োজনীয় দলিল সম্পন্ন করতে হবে, অন্যথায় জানাজা ও দাফন করতে দেওয়া হবে না।
সকাল ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর সম্পত্তির সমবণ্টনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় মরদেহ দাফনে সম্মত হয় দুই পক্ষের সন্তানরা। পরে তারাবির নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
প্রতিবেশীরা বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। পারিবারিক বিরোধ থাকলেও মৃত ব্যক্তির সম্মান রক্ষা করা সবার আগে প্রয়োজন। দাফন সম্পন্ন করার পর আইনি বা সামাজিকভাবে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লা হিল জামান জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। বিষয়টি তার জানা নেই।