Thursday 19 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সাধারণ মানুষের ইফতারে ফল হয়ে উঠছে ‘বিলাসিতা’!

তাসলিমুল হাসান সিয়াম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৩

গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডের ফলের দোকান। ছবি: সারাবাংলা

গাইবান্ধা: শুরু হয়ে গেছে মুসলমানদের সিয়াম-সাধনার মাস পবিত্র রমজান। এই রমজানে সারাদিন রোজা রেখে ইফতারে দেহে শক্তি ফেরাতে অন্যান্য খাদ্যের পাশাপাশি ফলমূলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। পানির ঘাটতি পূরণ, ক্লান্তি দূর করা এবং শরীরকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করতে কমলা, মালটা, তরমুজ, আঙুরসহ বিভিন্ন রসালো ফলের পাশাপাশি খেজুরও রোজাদারের প্রথম পছন্দ। তবে চলতি রমজানে এসব ফলের দাম এমনভাবে বেড়েছে যে, সাধারণ মানুষের জন্য ইফতারে রকমারি ফল রাখা ‘দুঃসাধ্য’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডের ফলের দোকান, হকার্স মার্কেট, পুরাতন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফলের স্টলগুলোতে ভিড় থাকলেও ক্রেতাদের চোখ-মুখে হতাশা। পছন্দের ফল হাতে নিয়েও দাম শুনে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে।

বিজ্ঞাপন

গত মাসের তুলনায় প্রতিটি ফলের দাম ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে খেজুরের দাম গত বছরের রমজানের তুলনায় অনেক বেশি, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় ধাক্কা। ক্রেতাদের অভিযোগ রমজান এলেই ব্যবসায়ীরা অকারণে দাম বাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে বাজারে ড্রাগন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়, ডালিম ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কমলা ৩২০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা, আপেল ২৮০ থেকে ৩৪০, মালটা ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা, সাদা আঙ্গুর ৪৫০ টাকা ও কালো আঙ্গুর ৫০০ টাকা। এ ছাড়া, ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি মেডজুল খেজুর ১২০০ টাকায়, আজওয়া ১৩০০ টাকা, মাশরুব ৭০০ টাকা ও ইরাকি খেজুর ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সবচেয়ে কম দামের জাহিদি খেজুরও বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়।

হকার্স মার্কেটে ফল কিনতে আসা রেজাউল করিম সারাবাংলাকে বলেন, ‘রমজানে ইফতারের জন্য একটু ফল কিনতেই হাজার টাকা চলে যায়। সাধারণ মানুষের পক্ষে এত দাম দিয়ে ফল কেনা খুবই কষ্টকর।’ সাহানা বেগম নামের এক ক্রেতা জানান, কলা আর পেয়ারা ছাড়া তো দেশি ফল বাজারে নেই। তাই বাধ্য হয়ে কয়েকগুণ বেশি দাম দিয়ে বিদেশি ফল কিনতে হচ্ছে। ৩০০ টাকার নিচে কোনো ফল নেই।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি, পাইকারি বাজারে অস্থিরতা ও আমদানিনির্ভরতার কারণে ফলের দাম বাড়ছে। তারা আরও জানান, রোজায় আগের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় দাম স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। ডিবি রোডের ফল বিক্রেতা আনিসুজ্জামান সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা খুচরা বিক্রেতা। যে দামে কিনি তা থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ করে বিক্রি করি। রমজানে ফলের চাহিদা বাড়ে। সেজন্য দামও বেড়ে যায়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের গাইবান্ধা জেলার সহকারী পরিচালক পরেশচন্দ্র বর্মণ সারাবাংলাকে বলেন, ‘রমজান উপলক্ষ্যে আমরা জেলার বিভিন্ন স্থানে বাজার মনিটরিং করছি। কোনো অসঙ্গতি পেলে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।’ জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক আহত
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:১৮

আরো

সম্পর্কিত খবর