Friday 20 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যশোরে ৮ বছর যাবত রমজানে তৃষ্ণার্তদের পাশে ‘আইডিয়া’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২৬

ঠান্ডা পানি নিতে মানুষের লাইন।

যশোর: রমজানের বিকেল মানেই তৃষ্ণার অপেক্ষা। সেই অপেক্ষায় স্বস্তির ছোঁয়া দিতে টানা আট বছর ধরে যশোর শহরের মানুষের দ্বারে দ্বারে বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি পৌঁছে দিচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থা। আসর থেকে ইফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ভ্যানে করে বিনামূল্যে ঠান্ডা পানি বিতরণ করে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংগঠনটি।

ভ্যানের উপরে বিশাল ট্যাঙ্কিতে বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি। পাশে রাখা একটি সাউন্ড বক্সে বাজছে ইসলামিক সংগীত। সংগীতের মাঝে মাঝে সাউন্ডবক্সে এলাকাবাসীকে আহ্বান করা হচ্ছে পানি নেওয়ার। সাউন্ড বক্সের সেই আহ্বানে ছোট থেকে বয়োজৈষ্ঠরাও কলস আর বোতল নিয়ে পানি নিতে আসছেন দলবেঁধে। বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি পেয়ে খুশি স্থানীয়রাও।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রথম রমজানের শুরুর দিনেই শহরের খড়কি আঞ্জুমানে খালেকিয়া এতিমখানার সামনে স্থানীয় গণমাধ্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে অষ্টমবারের মতো এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। আয়োজকরা জানান, ২০১৯ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতি রমজানে যশোর শহরের পৌরসভার ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের খড়কী এলাকায় মাসব্যাপী বিনামূল্যে বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি সরবরাহ করে আসছেন তারা। সংগঠনটির অর্থায়নে ও শিক্ষার্থীদের গচ্ছিত টাকা দিয়ে মাসব্যাপী এই মানুষের দ্বারে দ্বারে যেয়ে ঠান্ডা পানি বিতরণ করছেন তারা। পানি বিতরণে দায়িত্বে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

পানি নিতে আসা নাসিম, রহিম উদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দারা জানান, ‘খড়কি এলাকায় পানির সংকট সারাবছরই। সেই জায়গা থেকে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির অভাব। রোজার মাসে ইফতারের আগে বিশুদ্ধ পানি পেয়ে আমরা উপকৃত। শিক্ষার্থীদের এই ধরণের উদ্যোগ স্বাগত জানাই আমরা।’

স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, সাবমারসিবল পাম্প থেকে উত্তোলিত বিশুদ্ধ পানি বরফ দিয়ে শীতল করে প্রতিদিন নির্ধারিত স্পটে সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি কখনো কখনো আকস্মিকভাবে ঠান্ডা শরবত বিতরণও করা হয়, যা রোজাদারদের মাঝে বিশেষ আনন্দের সৃষ্টি করে।

প্রকল্পের সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন প্রতিবছর আইডিয়াই বহন করে থাকে। প্রকল্পের সমন্বয়ক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘গত পাঁচ বছর স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মানুষের পানির প্রয়োজন কাছ থেকে দেখেছি। সারাদিন নিজেও রোজা রেখে অন্যদের পানির প্রয়োজন মেটাতে পারার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ছোট শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ সবার মুখের তৃপ্তির হাসিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

রমজানে মানবিক চেতনা ও সামাজিক সংহতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে প্রতি বছরই ‘আইডিয়া বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি প্রকল্প’ স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিচ্ছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন বলেন, ‘রমজানজুড়ে আইডিয়ার বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মসূচির মধ্যে বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি প্রকল্প অন্যতম। নিম্নআয়ের পরিবার, মেসে থাকা শিক্ষার্থী, দোকানদার ও দিনমজুরদের কাছে এটি বড় স্বস্তির উৎস। এলাকার মানুষের এই স্বস্তিই আমার ছেলেমেয়েদের বড় অর্জন। এবারের রমজানে তাই শুরুই করা হলো বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি বিতরণের মধ্য দিয়ে। বিনামূল্য পানি সরবরাহ ছাড়াও সংগঠনটি অসহায় মানুষের ফ্রাইডে মিল বিতরণসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ড করে আসছে।’

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর