যশোর: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সরকার অতীতের মতো দলকানা বা রাজনৈতিক পরিচয়নির্ভর কর্মকর্তাদের দেখতে চায় না। সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারও বিশেষ আনুকূল্য পাওয়ার সুযোগ নেই। পারফরম্যান্সই হবে মূল্যায়নের মানদণ্ড।
শনিবার (২১ জানুয়ারি) যশোরে বিভিন্ন দফতরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সবাইকে জবাবদিহির মধ্যে কাজ করতে হবে এবং সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে। অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে সমস্যা তৈরি হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তিনি বিভিন্ন দাফতরিক প্রধানদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যশোরের হয়ে আমার কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেন। আমি আপনাদের হয়ে মন্ত্রণালয়ে দৌড়াব। অতীতে জনগণের সঙ্গে কোনো প্রকার সংযোগ ছাড়াই কাজ হয়েছে। যে কারণে জনগণের কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি।
যশোর শিশু হাসপাতালের এনআইসিইউ, করোনারী কেয়ার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ রূপ যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, বিসিক ঝুমঝুমপুর এলাকায় ফায়ার ব্রিগেডের সাব স্টেশন, বিশেষায়িত হিমাগার তৈরির বিষয় কথা বলেন তিনি। এছাড়াও ভবদহসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং খাল খননের বিষয় কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মুক্তেশ্বরী নদের জায়গা দখল করে প্লট হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। অতীতে যারা সরকারি দলে ছিল তারাই এই অপকর্ম গুলো করেছে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমার রাজনৈতিক দলের কোন ঊধ্বর্তন ব্যক্তি এমন কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সাথে আপনারা (প্রশাসন) ব্যবস্থা নেবেন। অতীততে জনগণের সম্পদ গ্রাস হয়েছে আগামীতে হবে না। আমরা আপনাদের কাজে সহায়তা করব। আমার দলের কোনো ব্যক্তি যদি আপনাদের কাজে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে তাকে বরদাস্ত করা হবে না।
মাহে রমজানের প্রথম দিন পৌর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা অনির্বাচিত সরকার করতে পারে। নির্বাচিত সরকার পারে না। আমরা ফুটপাত দখল মুক্ত করব, যানজট নিরসন করব সবই ঠিক আছে। এ ক্ষেত্রে মানবিক হতে হবে। তাদের জন্য বিকল্প কিছু করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আবারও মাদক সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং মুক্ত নিরাপদ যশোর গড়ার অঙ্গীকার পুর্নব্যক্ত করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন মাসুদ রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, যশোর এন এস আইয়ের যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের পারভেজ, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ যশোরের প্রতিটি সরকারি দফতরের কর্মকর্তারা।