রংপুর: রংপুর-৪ আসনে নির্বাচনের দিন ও রাতে কোনো অনিয়মের অভিযোগ না তুললেও পরাজয়ের পর ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা—এমন অভিযোগ করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচনি এলাকার কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
আখতার বলেন, নির্বাচনের পর থেকে হারাগাছে এনসিপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও হামলা চলছে, ১০ দিন ধরে কর্মীরা এলাকা ছাড়া। এলজিডিআরডি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরিস্থিতি অবগত করেছেন এবং হামলাকারীদের গ্রেফতারসহ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘১২ তারিখ সারাদিন-রাত পর্যন্ত নির্বাচনে অনিয়ম প্রসঙ্গে ভরসা কোনো অভিযোগ করেননি। যখনই তিনি পরাজিত হয়েছেন, তখন থেকেই অভিযোগ করছেন ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন। নির্বাচনের পরের দিন থেকে হারাগাছে এনসিপির দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে ভরসা বাহিনী ও বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী।’
তিনি আরও বলেন, ‘এলজিডিআরডি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমি আমার এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করেছি। আমার নির্বাচনি এলাকা আজ অনিরাপদ। ১০ দিন হয়েছে, পুলিশ কোনো সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আমার নেতাকর্মীরা ১০ দিন থেকে এলাকা ছাড়া, কারণ ভরসা গ্রুপ ও বিএনপির সন্ত্রাসীরা সবাইকে এলাকা ছাড়া করেছে। হারাগাছে যাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে, তাদের গ্রেফতার করার দাবি জানাই। ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’
আখতার হোসেন নিজ ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমার হারাগাছে আসা নিয়ে যদি কিছু ঘটে তার দায় ভরসা এবং বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে। আমরা হারাগাছের নিপীড়িত শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।’
তিনি নির্বাচনের দিন হারাগাছ পৌরসভায় শাপলা কলির এজেন্টদের বাধা দেওয়া, টেবিল ভাঙচুর, গালাগালি ও হুমকির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, ভরসা বাহিনী ১৫-২০ হাজার অতিরিক্ত ভোট দেখানোর প্ল্যান করেছিল, যা তিনি ঠেকিয়েছেন। নির্বাচনের পর থেকে এনসিপি কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলা চলছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে আখতার হোসেন ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি। ভরসা ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন এবং নির্বাচনের পর থেকে টানা বিক্ষোভ-সমাবেশ-সড়ক অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। হারাগাছ পৌরসভায় (৫৫ হাজার ৪৫১ ভোটার) বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি ভালো আছে। তবে কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি করতে না পারে সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’