রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীর ৪১টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে ‘ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন’র অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন বিএনপির পদ বঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিগত ১৭ বছর ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার’ পতনের আন্দোলনে রাজশাহী মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের শাসনামলে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকেই বাড়িতে অবস্থান করতে পারেননি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সেই ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে রাজশাহী মহানগরীর ৪১টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের কমিটিতে আওয়ামী লীগের লোকজনকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধন থেকে রাজশাহী মহানগর যুবদলের ৪১টি ওয়ার্ডে গঠিত নতুন ‘পকেট কমিটি’ বাতিল করে অনতিবিলম্বে পুনরায় কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের আগে যারা স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিতে ছিলেন—এমন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডারদের যুবদলের ৪১টি ওয়ার্ড কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে (প্রায় ২০০ জনকে) স্থান দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলেও তারা দাবি করেন।
এ ঘটনায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এ ছাড়া, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে দলীয়ভাবে শোকজ হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক তানভীর আলম, মতিহার থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক শফিউল আলম টিয়া, রাজশাহী মহানগর ২১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বকুল, ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাজির হাসান এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।