যশোর: যতদূর চোখ যায়, নানা জাতের সবজির খেত। খেতের মাচায় ঝুলছে বাহারি মিষ্টি কুমড়া। জাত ভেদে কুমড়ার ওজন ও সাইজ ভিন্ন। পাশের জমিতে ঝুলছে ছোট, বড়, মাঝারি লাউ। কয়েক পা এগিয়ে দেখা মিলবে বেগুনের খেত। যত ধরনের বেগুন আছে, তার সব কয়টিই যেন ফলেছে এখানে। পাশাপাশি জমিতে ২৬টি ফসলের ১২৯টি উন্নত জাতের সবজি চাষ করা হয়েছে যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের এই মাঠে। সবজির ভাণ্ডার খ্যাত যশোরে এসব সবজির বাম্পার ফলনই বলে দেয় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।
সারাদেশের বীজ পরিবেশক ও কৃষকদের নিয়ে এসিআই সীডের আয়োজনে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে ক্রপ শো-২০২৬।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের কৃষকদের সম্পদশালী করাই মূল লক্ষ এসিআই সীডের। আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় যুগোপযোগী সঠিক জাত নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। এই ক্রপ শো অঞ্চলভিত্তিক বীজ বিক্রেতা ও কৃষকদের সময়োপযোগী জাত নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দেশের সবজির চাহিদা পূরণ ও কৃষি উদ্যোক্তাদের চাষাবাদে সফলতা এনে দিবে।
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি আব্দুলপুর গ্রামের আজিজুল ইসলাম। চার দশকের বেশি সময় কৃষি চাষের সাথে সম্পৃক্ত তিনি। সারা বছরই কোন না কোন সবজি চাষ করেন। এদিন তিনি এসেছিলেন এসিআই আয়োজিত সবজির ক্রপ শোতে। এখানে এসে তিনি বিস্মিত। কেননা তিনি এর আগে উচ্চ ফলনশীল সবজি দেখেননি।
তিনি বলেন, ‘এখানে এসে টমেটো, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, বেগুনসহ নানান সবজি দেখেছি। আমরা যেসব জাতের সবজি চাষ করি, তার চেয়ে অনেক বড়। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, এখানকার জাতের সবজিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম। দ্রুত ফলন পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে চাষি উপযোগী চাষাবাদের সবজির জাত দেখছি এখানে। এই ধরনের জাত আগামী মৌসুম থেকে চাষাবাদ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।’
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরেরর উপ পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এই ধরনের গবেষণা ও ফসলের নানান জাতের ক্রপ শো বেশি বেশি হওয়া দরকার। এতে করে কৃষকরা তাদের ফসলের সিলেকশন করতে পারবে। কৃষকরা তাদের আবহাওয়া অনুযায়ী তাদের ফসলের জাত বাছাই করে চাষাবাদ করে লাভবান হবে। বীজ নিয়ে কৃষকদের নানা প্রতারণার অভিযোগ থাকে। এখানে উচ্চ ফলনশীল যেসব জাতের সবজি দেখলাম, সেটা আমাদের কৃষি সেক্টরে আশাব্যঞ্জক।
এসিআই সীড বিজনেস ডিরেক্টর সুধীর চন্দ্র নাথ বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় যুগোপযোগী সঠিক জাত নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্রপ শো অঞ্চল ভিত্তিক বীজ বিক্রেতা ও কৃষকদের জন্য সময়োপযোগী উপযুক্ত জাত নির্বাচনে কার্যকর সহায়তা প্রদান করবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ক্রপ শোর পরবর্তী দিন উক্ত প্রদর্শনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কৃষির সঙ্গে পরিচিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে কৃষি বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হবে। শিশু-কিশোরদের কৃষি সম্পর্কে সচেতন ও আগ্রহী করে তোলা দেশের কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক্রপ শোর উচ্চ ফলনশীল সবজি কৃষক ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতেই আগামীতে এসব জাতের বীজ বাণিজ্যিকভাবে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।