কক্সবাজার: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের গুধিকাটা এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার অভিযোগে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন। কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পরিদর্শনে নেতৃত্ব দেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহাবুবুর রহমান মাহাবু এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নুরুল আবছার নিলয়। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাহাড় কাটার পরিমাণ, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং আশপাশের বসতবাড়ির অবস্থান ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তাঁরা।
অভিযানে সহযোগিতা করেন বন বিভাগের টৈটং বিটের কর্মকর্তারা এবং পেকুয়া থানা পুলিশের সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুধিকাটা এলাকায় একটি বড় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আবু তাহের, শাহাদাত, বাচ্চু ও ইসমাঈল নামে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি স্থানীয় মঞ্জুর নামের এক ইউপি সদস্য পাহাড়টি বিক্রি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, নির্বিচারে পাহাড় কাটায় মাটির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোথাও যেন অবৈধভাবে পাহাড় কাটা না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এ পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়ে এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিবেশ ধ্বংসের এ প্রবণতা বন্ধ হবে।