কক্সবাজার: রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে পথ হারিয়ে কক্সবাজারে পৌঁছে যাওয়া সাত বছরের শিশু মেহেদি অবশেষে ১৩ মাস পর পরিবারের কাছে ফিরে গেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে তার বাবা তাইজুদ্দিন ও চাচা সাইফুল হকের হাতে তুলে দেয়।
পরিবার ও কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে পথ হারায় মেহেদি। পরে সে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ভুলবশত কক্সবাজারগামী একটি ট্রেনে উঠে পড়ে। দীর্ঘ যাত্রা শেষে কক্সবাজারে পৌঁছে পথশিশুদের সঙ্গে মিশে যায় সে। ঘুরতে ঘুরতে একপর্যায়ে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে চলে যায়। সেখানে তাকে একা কান্নাকাটি করতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। টেকনাফ থানা পুলিশ তখন শিশু মেহেদিকে উদ্ধার করে। তবে নিজের নাম ছাড়া অন্য কোনো ঠিকানা বা ফোন নম্বর বলতে না পারায় তাকে সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে কক্সবাজারের সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
কেন্দ্রের প্যারা-কাউন্সিলর সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘কেন্দ্রে আনার পর থেকেই মেহেদি সবার প্রিয় হয়ে ওঠে। লেখাপড়া ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও সে সবসময় পরিবারের জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকত।’
তিনি জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহযোগিতায় এবং শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীর মাধ্যমে জাতীয় চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করা হয়। পরে ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদানের মাধ্যমে ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মেহেদির পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়।
এদিকে, ছেলের ফিরে আসার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন বাবা তাইজুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘গত এক বছর ধরে ছেলেকে হন্যে হয়ে খুঁজেছি, কিন্তু কোথাও পাইনি। আশা ছেড়ে দিলেও মনে মনে একটা আকুতি ছিল। ১০৯৮ নম্বরের মাধ্যমে ছেলেকে ফিরে পাব, এটা ভাবিনি। আমি আজ ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।’
কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি হেল্পলাইন ১০৯৮ ও মাঠপর্যায়ের সমাজকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় হারিয়ে যাওয়া শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে।