Wednesday 25 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

খুলনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৩

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন নিখোঁজ ব্যবসায়ীর বাবা।

খুলনা: খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের জামাতা ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন (৩৫) পাঁচদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে উদ্ধারের দাবি জানিয়ে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।

আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ ব্যবসায়ী সুজনের বাবা কাজী আব্দুস সোবহান বলেন, ‘গত ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে আমার ছেলে কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন নিজ বাসভবনে ইফতার করে। এরপর একটু বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে সে পুলিশ লাইন মসজিদে তারাবিহ’র নামাজ আদায় করতে যায়। প্রায় আধাঘণ্টা পর নামাজ আদায় করে সে মসজিদ থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সে মসজিদ থেকে বের হয়ে সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। এরপর আর তাকে দেখা যাচ্ছে না। আমরা আশপাশের অনেক সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তার অবস্থান জানার চেষ্টা করি। কিন্তু ওই এলাকায় অনেক সিসিটিভি থাকলেও তা নষ্ট থাকায় আমরা তার পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানতে পারিনি। মসজিদের সামনে থেকে সুজনের নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা খুবই রহস্যজনক।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘ওই রাতে আত্মীয়-স্বজন, সুজনের বন্ধু-বান্ধবসহ পরিচিত সব স্থানে খোঁজ নিয়ে কোনো সন্ধান না পেয়ে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখে খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। এ ছাড়া, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করে সুজনকে উদ্ধারে সহযোগিতা চাই। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে এখনো সুজনকে উদ্ধার বা তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে আমি এবং আমার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ছেলেকে দেখতে না পেয়ে আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছে। আমার বউমা (সুজনের স্ত্রী) তার একমাত্র সন্তানকে (৫) নিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাবাকে দেখতে না পেয়ে আমার নাতি কান্নাকাটি করছে।’

এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে সুজন কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত নয়। আমার সব ব্যবসা-বাণিজ্য সে দেখাশোনা করত। আমার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। কারও সাথে কোনো শত্রুতাও নেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ছাড়া আর কোথাও সে যেত না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে আমার ছেলে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছে। আমি আমার সন্তানকে নিয়ে সবসময়ই গর্ববোধ করি। এমন ছেলে কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা মেনে নেওয়া যায় না।’

এ সময় সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘খুলনার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে আমি এই শহরের সব শ্রেণির মানুষদের সঙ্গে চলাফেরা করি। অথচ আজ আমি আমার একমাত্র ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। আমি এবং আমার পরিবার আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে আমার ছেলেকে উদ্ধারে সবার কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর