Wednesday 25 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পের আগুন ৪ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৪:৫৫

কক্সবাজারে সদ্য নির্মিত গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণ। ছবি: সারাবাংলা


কক্সবাজার: কক্সবাজার শহরের প্রবেশমুখ কলাতলী এলাকায় সদ্য নির্মিত একটি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের চার ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে। পাশাপাশি রামু সেনানিবাসের দুটি অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট এবং বিমানবন্দরে নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুটি অগ্নিনির্বাপক গাড়ি নিয়ে বিমানবাহিনীর সদস্যরা যোগ দেন। রাত ১০টার দিকে আগুন লাগার পর মোট নয়টি ইউনিট টানা চার ঘণ্টা চেষ্টায় রাত ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ‘এন. আলম’ নামের সদ্য উদ্বোধন করা পাম্পটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উদ্বোধনের পরদিনই এ দুর্ঘটনা ঘটল। এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাম্পটির একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী এরফানুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশের কয়েকটি স্থাপনাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গ্যাস পাম্পের খালি জায়গায় পার্কিং করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণস্থলের পাশে আরেকটি গ্যাসভর্তি ট্যাংক থাকায় নতুন করে বিস্ফোরণের আশঙ্কা দেখা দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি রক্ষা পেয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। বিস্ফোরণের পরপরই এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। গ্যাস ছড়িয়ে পড়া এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আশপাশে আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করা হয়। কলাতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখায় ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। পরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে একজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এবং আটজনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। পাঁচজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে দগ্ধ অন্তত ১০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিকেজ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরেও পুরো এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন। তাই দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।’

ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া এলপি গ্যাসের কারণে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। গ্যাস লিকেজ বন্ধের কাজ করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। তাই আগুন নিয়ন্ত্রণ করে গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করা হয়েছে। এখন দুর্ঘটনাস্থল পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত করতে আমরা কাজ করছি।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখে। পুলিশ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর কাজ করেছে।’

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো