Thursday 26 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পেকুয়া পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫০

পেকুয়া পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু

কক্সবাজার: কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের পর স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন সীমানা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী উপজেলা সদর ও সংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত পৌরসভার সম্ভাব্য প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণের লক্ষ্যে সমীক্ষা পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম। সমীক্ষায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আখতার নিলয়, পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ইউএনও মাহবুব আলম বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী পেকুয়া পৌরসভা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সীমানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। আমরা কাজ শুরু করেছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক আধা-সরকারি পত্রে পেকুয়া সদর ইউনিয়নকে ভেঙে পৌরসভা গঠনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০২ সালের ২৭ মার্চ প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটির (নিকার) বৈঠকে পেকুয়া উপজেলা অনুমোদিত হয় এবং ২৭ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এটি উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠার ২২ বছর পরও উপজেলা সদর পৌরসভার মর্যাদা না পাওয়ায় স্থানীয় জনগণ আধুনিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে তিনি পত্রে উল্লেখ করেন।

পত্রে জানানো হয়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের আয়তন ২৯ দশমিক ৪০ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৬০ হাজার ৫৭৪ হলেও বর্তমানে তা প্রায় ১ লাখের কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউনিয়নটিতে ৩৪টি গ্রাম, দুটি কলেজ, একটি আলিম মাদরাসা, একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, দুটি এমপিওভুক্ত উচ্চবিদ্যালয়, দুটি দাখিল মাদরাসা, ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কমিউনিটি বিদ্যালয় ও একাধিক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এছাড়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৭টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। সরকারিভাবে ইজারাকৃত ৩টি হাটবাজার থেকে বছরে প্রায় ২ কোটির বেশি রাজস্ব আদায় হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে নৌঘাঁটি, সাবমেরিন ঘাঁটি, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় পৌরসভার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়।

ইউএনও মাহবুব আলম আরও বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ ২৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক চিঠিতে জেলা প্রশাসককে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ৩ ও ৪ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে অনুরোধ করে। এর মধ্যে রয়েছে প্রস্তাবিত এলাকার জনসংখ্যা ও ঘনত্ব, অকৃষি পেশা ও ভূমির হার, মৌজা ও দাগ নম্বরের তফসিল (ডিজিটাল মানচিত্রসহ), রাজস্ব আয়ের তথ্য এবং এলাকা সেনানিবাস বহির্ভূত কি-না এসব বিষয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, পৌরসভা গঠিত হলে পেকুয়ায় নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরায়ণে নতুন গতি আসবে।

পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাফায়েত আজিজ রাজু বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আহমদ। নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি পেকুয়াকে পৌরসভায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে।

মো. শাফায়েত আজিজ রাজু আরও বলেন, পেকুয়া সদর ইউনিয়নকে কেন্দ্র করেই প্রস্তাবিত পৌরসভা গঠন করা হবে। পাশাপাশি চকরিয়া উপজেলা ভেঙে নতুন একটি উপজেলা (মাতামুহুরী) ও কয়েকটি ইউনিয়ন গঠনের বিষয়েও প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কক্সবাজার জেলায় এটি হবে পঞ্চম পৌরসভা।

বিজ্ঞাপন

পেকুয়া পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫০

লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭৫ বাংলাদেশি
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৬

আরো

সম্পর্কিত খবর