নীলফামারী: দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে নীলফামারী জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আব্দুল মজিদের পদ সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলের দফতর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন-এর নির্দেশক্রমে মো. আব্দুল মজিদকে এই সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নীলফামারী জেলা এনসিপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা গণমাধ্যমকে জানান, জেলা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর মো. আব্দুল মজিদ একাধিক নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একক সিদ্ধান্তে বহিরাগত কয়েকজনকে দিয়ে অনুমোদনহীন ও ভুয়া জেলা ছাত্র শক্তির কমিটি গঠন করেন, যা দলের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
নেতারা আরও জানান, তিনি নিজের ইচ্ছেমতো বিভিন্নজনকে পদ-পদবি দেওয়া, নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং প্রকাশ্যে হেয় করার মতো আচরণে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি দলের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করে নিজস্ব বলয় গড়ে তুলে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং তৈরির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়াও ডোমার উপজেলার এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নামে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট নেতারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই নেতার এক কল রেকর্ড এ শোনা যায়। সেখানে তিনি ডোমার উপজেলা এনসিপির কমিটি দেওয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা প্রস্তাব করেন। নইলে অফিসের জন্য এলইডি টেলিভিশন সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়ার প্রস্তাব দেন। নীলফামারীর জেলার অন্যান্য উপজেলা কমিটির ক্ষেত্রেও খরচ নেওয়া হয়েছে বলে ওই কল রেকর্ডে শোনা যায়।
এ বিষয়ে মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমার কোনো পদ স্থগিত হয়নি। এটি মিসগাইড হয়েছে, আমি নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কল রেকর্ডের বিষয়ে তিনি বলেন পার্টির অফিসের জন্য খরচ চাওয়া হয়েছে।’