Thursday 26 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আবু সাঈদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি
‘এসি ইমরানকে সাক্ষী নয়, আসামি করুন’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৫৮

আবু সাঈদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর: জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং পুলিশের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (এসি) আল ইমরান হোসেনকে সাক্ষী না করে চার্জশিটভুক্ত আসামি করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী ও শহীদের সহযোদ্ধারা।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন শতাধিক শিক্ষার্থী, সাবেক সমন্বয়ক ও শহিদের পরিবারের সদস্যরা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়ে যেকোনো দিন রায় ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা সত্ত্বেও এসি ইমরানকে বাদ দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ ও অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ। তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদসহ সকল শহিদের মামলার বিচারে অনীহা দুরভিসন্ধিমূলক কিনা খতিয়ে দেখতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার হোক বা বর্তমান সরকার— সবকিছুর ভিত্তি আবু সাঈদের জীবনদান। যদি দ্রুত নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে গাদ্দারি করা হবে। ১৮ মাস ধরে প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের বিচার ঝুলে থাকলে সন্দেহ থেকেই যায়। শুধু আবু সাঈদ নয়, হাদি হত্যাকাণ্ডসহ সব শহিদের বিচার দ্রুত করতে হবে। তাদের রক্তের বিনিময়ে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারা জুলাইয়ের জাস্টিস দিতে ব্যর্থ হলে জনগণ ক্ষমা করবে না।’

শহিদ আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হাসান বলেন, ‘দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও ছোট ভাইয়ের হত্যার বিচার পাইনি। যার আত্মত্যাগে দেশের এত বড় পরিবর্তন হয়েছে, সেই হত্যাকাণ্ডে পুলিশের নেতৃত্ব ছিল। অথচ এসি ইমরানকে চার্জশিটে না রেখে সাক্ষী বানানো হয়েছে। আমরা চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছি। নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে দাবি—দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় এনে রায় কার্যকর করুন।’

ছোট বোন সুমি বেগম বলেন, ‘ভাই হত্যার দেড় বছর পরও রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে—এটা আমাদের লজ্জা। আমরা চাই দ্রুত রায় হোক, কেউ যেন পার না পায়। পরিবারের একমাত্র চাওয়া—ন্যায়বিচার।’

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা ও জুলাই বিপ্লবের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বয়ক মাহিদ হাসান শাকিল অভিযোগ করে বলেন, ‘এসি ইমরান ১৬ জুলাই ২০২৪-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। নিজ হাতে ইট-পাটকেল ছুড়েছেন। তিনজন অফিসারের হাতে ওয়াকিটকি ছিল—তার একজন তিনি। তার সামনে থেকেই এসআই আমীর আলী ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র আবু সাঈদকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এসব প্রমাণ আমরা ট্রাইব্যুনালে দিয়েছি, কিন্তু আমলে নেওয়া হয়নি। এজাহারভুক্ত আসামি কীভাবে সাক্ষী হয়ে গেল—তা জানতে চাই। দ্রুত রায় না হলে সহযোদ্ধারা আবার মাঠে নামতে বাধ্য হব।’

সমন্বয়ক এস এম আশিকুর রহমান, রহমত আলী, শামসুর রহমান সুমন, রোবায়েত হাসান খোকন ইসলাম, আরমান হোসেনসহ শিক্ষার্থী সাইমা বেগম বলেন, সারা বিশ্ব দেখেছে আবু সাঈদকে কীভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বিচারের কোনো দীর্ঘসূত্রিতা চাই না।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেরোবি ১ নম্বর গেটসংলগ্ন পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ। তার প্রকাশ্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ভাইরাল হলে আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

শহিদের বড় ভাই রমজান আলী মামলা করেন। পরে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হয়েছে। গ্রেফতার রয়েছেন এসআই আমীর হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা এমরান চৌধুরী আকাশসহ ছয় জন। পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে। গত ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে— রায় যেকোনো দিন ঘোষণা হতে পারে।

তবে এসি আল ইমরানকে প্রাথমিক অভিযোগে থাকলেও চূড়ান্ত চার্জশিটে আসামি করা হয়নি। শিক্ষার্থী ও পরিবারের দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে সক্রিয় ছিলেন, অথচ তদন্তে বাদ পড়েছেন। অন্য জুলাই মামলায়ও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে রাজসাক্ষী বানানো নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

শহিদের সহযোদ্ধারা সতর্ক করে বলেছেন, আবু সাঈদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। বিচার না পেলে আবার আন্দোলনে নামব। মানববন্ধন শেষে তারা ট্রাইব্যুনাল ও সরকারের কাছে লিখিত স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর