কক্সবাজার: জেলার রামু উপজেলার পূর্বাঞ্চলে তীব্র সার সংকটের অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত দিয়ে অবাধে সার পাচারের কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এতে চাষাবাদের মাঝপথে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড় ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া সীমান্তসহ ফুলতলী, লেমুছড়ি ও ভাল্লুকখাইয়া এলাকা দিয়ে প্রতিদিন গাড়িভর্তি সার পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে। এতে স্থানীয় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে এবং কৃষকদের বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দামে সার কিনতে হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি চোরাচালান সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারা সীমান্তপথে সার পাচার করে বিপুল মুনাফা অর্জন করছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে প্রান্তিক কৃষকদের।
এদিকে এলাকায় তামাক চাষে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের প্রবণতাও সংকটকে আরও তীব্র করেছে। অভিযোগ রয়েছে, কৃষি বিভাগের প্রণোদনার সার গোপনে তামাক চাষিদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের কৃষক নুরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণে অনিয়ম, অর্থ আদায় ও স্বজনপ্রীতির ঘটনা ঘটছে। একই এলাকার কৃষক জাহেদুল ইসলাম জানান, সাত কানি জমিতে বোরো ধান চাষ করলেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা সারের দাম ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা হলেও বাজারে তা ২০০০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সময়মতো সার না পাওয়ায় তার ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক কৃষক নির্ধারিত সময়ে জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারছেন না, ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুশান্ত দেব নাথ বলেন, এলাকায় প্রকৃত কোনো সার সংকট নেই। একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকটের গুজব ছড়িয়ে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং দুর্গম এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।