Tuesday 31 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গাইবান্ধায় জমে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ মরিচের হাট

তাসলিমুল হাসান সিয়াম
৩১ মার্চ ২০২৬ ১২:২৫ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ১২:২৬

মরিচের হাট।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর চরে মরিচের ব্যাপক ফলন হয়ে থাকে। এসব মরচ বিক্রির জন্য জেলার ফুলছড়ির ব্রহ্মপুত্র নদের ঘাটে বসে মরিচের হাট। এটিই এখন হয়ে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ মরিচের হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্রেতা, বিক্রেতাদের কেনাবেচায় দিনব্যাপী সরব থাকে হাটটি। আর প্রতি হাটে প্রায় ২ কোটি টাকার পাকা মরিচ বিক্রি হয়।

সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার বসা এ হাটে এবছর প্রতিমণ শুকনো মরিচ প্রকার ভেদে ১১ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর ছিল ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা প্রতি মণ।

স্থানীয়রা জানান, ভোরের আলো ফুটতেই নৌকায়, ঘোড়ার গাড়িতে ও কাঁধে মরিচ নিয়ে দলে দলে হাটে আসতে শুরু করেন বিভিন্ন চরের চাষিরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ এ হাট চত্বর। লাল টুকটুকে মরিচে সাজানো বস্তায় কাণায় কাণায় ভরা মরিচের হাট।

বিজ্ঞাপন

বিক্রির জন্য মরিচ স্তূপ করা রাখা হয়েছে।

গুণগত মানসম্পন্ন ও উৎপাদন বেশি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানি ও বিভিন্ন জেলার পাইকাররা কিনে নিয়ে যান লাল মরিচ। পাইকাররা মরিচ কিনে সরবরাহ করেন ঢাকা, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের মরিচ চাষী আতোয়ার রহমান জানান, চরে অন্য ফসলের চেয়ে মরিচ বেশি হয়। সঙ্গে অল্প খরচে লাভ বেশি পাওয়া যায়। তাই চরের সবাই মরিচ চাষ করে। সব কৃষক একসঙ্গে মরিচ চাষ করায় বিক্রির জন্য এ হাট গড়ে ওঠে।

তবে জমজমাট এই মরিচ হাটে অতিরিক্ত টোল বা হাসিল আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকরা। তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত মণ প্রতি ১০ টাকা হাসিলের জায়গায় জোরপূর্বক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। শুধু ক্রেতার কাছ থেকেই নয়, বিক্রেতাদের কাছ থেকেও আলাদাভাবে হাসিল নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেছেন।

নওগাঁ থেকে আসা মরিচ ক্রেতা ফারুক হোসেন বলেন, ‘এখান থেকে মরিচ কিনে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারী সরবরাহ করে থাকেন। কিন্তু ইজারাদার ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে কয়েকগুন বেশি খাজনা নেয়ায় মরিচের দাম অনেক বেশি পড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় মরিচ কেনাবেচা করি কিন্তু এতো টোল কোথাও নেয়া হয় না।’

মরিচ বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারে নেওয়া হচ্ছে।

ফুলছড়ি এলাকার মরিচ ব্যবসায়ী হাসান আলী বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মণ মরিচ ক্রয়ের জন্য ১০ টাকা হাসিল নেয়ার কথা, সে অনুযায়ী ৩ মণের বস্তায় নেওয়ার কথা ৩০ টাকা কিন্তু সেখানে নেওয়া হচ্ছে ৯০০ টাকা। সেইসঙ্গে মাপার জন্য দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত আরও ১০০ টাকা। সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে এমন অনিয়ম চলছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলছড়ি মরিচের হাটের ইজারাদার মো. ওহেদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘” দীর্ঘদিন পর হাট পেয়েছি। এ হাটে পূর্ব থেকে যে হারে হাসিল নেয়া হচ্ছিল সেভাবেই সবার সাথে সমঝোতার মাধ্যমে হাসিল নিচ্ছি।”

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, ‘জেলার ঐতিহ্যবাহি এ হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত হাসিল আদায় কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর