বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোংলায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের পেট্রোলিয়ামের ডিপোতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা তেল জব্দ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত তেলের বিষয় তদন্তে তারা একটি কমিটি গঠন করেছেন এবং তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) মধ্যরাত ১টায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, এনএসআই ও জেলা প্রশাসন যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে অভিযান চালায়। অভিযানের পর রোববার (২৯মার্চ) ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. আল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
আল আমিনের জায়গায় খুলনার দৌলতপুর ডিপোর উপ-ব্যবস্থাপক (এস অ্যান্ড ডি) সমিত বড়ুয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারীরা জানান, তেলের ডিপোতে অভিযান বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ অভিযানে তিনটি তেলের ট্যাংকে অবৈধভাবে মজুত করা ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অতিরিক্ত জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। এই তেলের বাজার মূল্য ১২ লাখ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা। কোম্পানির ১ নম্বর ট্যাংকে মজুত পাওয়া গেছে ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৭ লিটার, যা নথিভুক্ত পরিমাণের ৯৩২ লিটার বেশি। ৯ নম্বর ট্যাংকে পাওয়া গেছে ২৪ লাখ ২০ হাজার ৪৯৫ লিটার, যা নথিভুক্ত পরিমাণের চেয়ে ১২ হাজার ৮১৮ লিটার বেশি, ১৪ নম্বর ট্যাংকে মজুত পাওয়া গেছে ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৫ লিটার, যা নথিভুক্ত পরিমাণের ১ হাজার ১৩৭ লিটার কম।
এই অভিযানের বিষয়ে প্রতিবেদন স্বাক্ষর করেন অভিযান পরিচালনাকারী বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাস, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) প্রবীর হীরা, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাইয়ান আলম, বাংলাদেশ নৌবাহিনী বানৌজা মোংলার এসএইচএ আবুল কাশেম, কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট খালিদ সাইফুল্লাহ, যমুনা অয়েল মোংলার গেজারম্যান মো. জাহিদুর রহমান, বানৌজা মোংলার চিফ পেটি অফিসার মো. মিজানুর রহমান, মোংলা থানার এসআই মো. ইমামুল ইসলাম ও যমুনা অয়েলের কম্পিউটার অপারেটর (অস্থায়ী) মো. ফারুক হোসাইন।
উল্লেখ্য, মোংলা ডিপো থেকে মূলত বাগেরহাট, খুলনা, যশোরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়ে থাকে।