ফরিদপুর: জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে লাল র্যাশ নিয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে নতুন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০ জনসহ বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ২১ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে জানা গেছে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নতুন করে ৮ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ১৮ জন হাম ও রুবেলা শনাক্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে, যেখানে ৮ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডেই গাদাগাদি করে রোগীদের রাখতে হচ্ছে।
এছাড়া ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২ জন এবং ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।
ভাঙ্গা উপজেলার পূর্ব সদরদী গ্রামের এক শিশুর মা জানান, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের পর শরীরে লাল র্যাশ দেখা দিলে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে এনে পরীক্ষা করে শিশুটির হাম শনাক্ত হয়। বর্তমানে তার ছেলে কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসকদের মতে, যেসব শিশু ৯ ও ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলা টিকা পায়নি, তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান ফিরোজ জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। শুরুতে জ্বর-কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়, পরে শরীরে র্যাশ উঠলে রোগটি নিশ্চিত করা হয়।
তিনি আরও জানান, রোগীর চাপ বাড়ায় আইসোলেশন ইউনিট, বিশেষ চিকিৎসক ও নার্স দিয়ে আলাদা ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় ৪২ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে শুধু এই মাসেই ৩১ জন।