কুষ্টিয়া: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষিকা রুনা হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন পুলিশ হেফাজতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে ডাক্তার তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি এখন পর্যন্ত কোনো কথা বলতে পারেননি। যে কারণে তার কাছ থেকে এখনো বিস্তারিত তথ্যাদি পাওয়া যায়নি। তবে তিনি আহত অবস্থায় ডাক্তারের সামনে একটা লিখিত স্টেটমেন্ট দিয়েছিলেন। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন আছে।
তিনি আরও বলেন, মামলার অন্য আসামিরা যেন দেশের বাইরে যেতে না পারে সেজন্য বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা ইতিমধ্যে ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন স্থানে চিঠি পাঠিয়েছি এবং তাদের সম্পর্কেও আমাদের মামলাটির তদন্ত চলমান আছে।
এদিকে আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার পরদিন ৫ মার্চ নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানসহ চারজনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারে অন্তর্ভূক্ত অপর তিন আসামি হলেন— বিভাগটির সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার ও বর্তমান উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।

নিহত সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করে আত্মহননের চেষ্টা করেন একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে বাদ জোহর কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।