Wednesday 01 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ঘরে ফিরলেন অপহৃত কৃষক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩৫

অপহৃত কৃষক রিদোয়ানুল করিম।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের জাউচপাড়ার কৃষক রিদোয়ানুল করিম (৩৮) অপহরণের দুইদিন পর মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পরিবারের দাবি, আট লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে দেয়।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ঘরে ফেরেন। এ সময় তার স্বজনরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে।

এর আগে, রোববার (২৯ মার্চ) রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের লতাবনিয়া উঠুনি এলাকা থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। পরে মুঠোফোনে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিদোয়ানুল করিম নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের লংগদুরমুখ এলাকায় দুই একর জমিতে তামাক ও সবজির চাষ করেন। সেখানে একটি গরুর খামারও গড়ে তুলেছেন তিনি। প্রতিদিনের মতো রোববার রাতে কাজ শেষে নিজ বাড়ি রামুতে ফেরার পথে তিনি অপহরণের শিকার হন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন রিদোয়ানুল করিম। তিনি জানান, নয়জন অস্ত্রধারী যুবক তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে। দলের চারজন পাহাড়ি এবং পাঁচজন বাঙালি। অপহরণের পর পাহাড়ের একটি আস্তানায় নিয়ে তার হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সেখানে তাকে মারধর ও নির্যাতন চালিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘দর কষাকষির একপর্যায়ে আট লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।’

তিনি আরও জানান, মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে তার পরিবার প্রথমে খামারের গরু বিক্রির চেষ্টা করে। তবে তাৎক্ষণিক ক্রেতা না পাওয়ায় তার স্ত্রী ও ভাবির স্বর্ণালংকার বিক্রি করে মোট আট লাখ টাকা জোগাড় করা হয়।

তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভগ্নিপতি সুরত আলম ওই টাকা অপহরণকারীদের হাতে তুলে দেন। এরপর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। অপহরণকারীরা এ ঘটনা কাউকে না জানাতে সতর্ক করেছিল বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া, অপহরণকারীদের কয়েকজনের পরিচয় তিনি শনাক্ত করতে পেরেছেন বলে দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অফিসার ইনচার্জ) আবদুল বাতেন মৃধা বলেন, অপহৃত কৃষকের বাড়ি ফেরার তথ্য তারা পেয়েছেন। তবে মুক্তিপণ দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের জানা নেই। বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। কৃষক রিদোয়ানুলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।