লক্ষ্মীপুর: জেলার কমলনগরে গরুর মাংস ওজনে কম ও চর্বি বেশি দেওয়ার প্রতিবাদ করায় ক্রেতাকে পিটিয়ে আহত করার মামলায় সেই কসাই মো. বাহার ও তার ছেলে মো. সাহেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী অঞ্চল কমলনগর আদালতের সরকারি সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) আমজাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কসাই বাহার উপজেলার তোরাবগঞ্জ বাজারের গরুর মাংসের ব্যবসায়ী ও সাহেদ তার ছেলে।
এপিপি আমজাদ হোসাইন জানান, ভুক্তভোগী একজন সাধারণ দরিদ্র মানুষ। মাংস কিনতে গিয়ে ওজনে কম ও অতিরিক্ত চর্বি দেওয়ার প্রতিবাদ করায় আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে মামলা হলেও এতদিন কাউকে গ্রেফতার হয়নি। আজ মামলার দুই আসামি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক আরিফুর রহমান তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের নুরুল ইসলাম তার ছোট ভাইয়ের বিয়ের জন্য তোরাবগঞ্জ বাজারে কসাই বাহারের দোকানে মাংস কিনতে যান। মাংস কাটার সময় অতিরিক্ত হাড়, চর্বি ও ওজনে কম দেওয়ার প্রতিবাদ করলে কসাই বাহার, তার ছেলে সাহেদ ও দোকানের কর্মচারীরা নুরুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠিসোঁটার আঘাতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ২৯ মার্চ নুরুল ইসলামের বাবা আব্দুল হক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত বাহার কসাই ঘটনাটিকে ‘সামান্য হাতাহাতি’ বলে দাবি করেন। তার ভাষ্যমতে, মাংসের সঙ্গে চর্বি দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট কথা কাটাকাটির জেরে তার ছেলে রাগের মাথায় নুরুল ইসলামকে আঘাত করেছে।