লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের দায়ে ৬ জেলেকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে প্রশাসনের এই অভিযানকে ‘লোক দেখানো’ বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন অভিযান চালিয়ে ৬ জেলেকে আটক করেন। তবে প্রশাসনের এই তৎপরতাকে ‘লোক দেখানো’ অভিহিত করে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় আরও কার্যকর ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী চক্র বিভিন্ন টেবিল ‘ম্যানেজ’ করে মেঘনার অভয়াশ্রমে নির্বিচারে মৎস্য নিধন চালাচ্ছে। এমনকি স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতেও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ জাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। মাঝেমধ্যে দায়সারা অভিযানে জেলে আটক ও জাল জব্দ হলেও বরাবরের মতোই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মৎস্য নিধনের মূল হোতারা।
প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেট নির্বিচারে জাটকা শিকার চালালেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন বলেন, যৌথ অভিযানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকারে যাওয়া ৬ জেলে আটক হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের ১ মাস করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয় হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জব্দ জাল আগুনে পুড়ে বিনষ্ট করা হয়ছে। জব্দকৃত মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। এসময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা, কমলনগর থানা পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, জাটকা রক্ষায় ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে (রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিমি) সব ধরনের মাছ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ সময়ে মাছ আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ দণ্ডনীয় অপরাধ, যার দায়ে জেল-জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।