গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে মোটরসাইকেল বাজারে। তেল পেতে ভোগান্তি বাড়ায় নতুন মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ কমে গেছে। এতে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার শোরুমগুলোতে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
শোরুমগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের পর থেকেই বিক্রির চিত্র বদলে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ক্রেতাদের ভিড় থাকত, এখন অনেক শোরুমে দিনের পর দিন কোনো বিক্রি হচ্ছে না। বিক্রেতারা বলছেন, অনিশ্চিত জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে ক্রেতারা নতুন করে বাইক কেনা থেকে বিরত থাকছেন।
ইরা বাজাজের শোরুম ম্যানেজার শাহিদুল ইসলাম শান্ত বলেন, ‘আমরা প্রতিমাসে সাধারণত ৪০ থেকে ৫০টি মোটরসাইকেল বিক্রি করলেও ঈদের সময় বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু গত দুইদিনে একটি বাইকও বিক্রি হয়নি। শোরুমের ইতিহাসে এমন ক্রেতাশূন্য পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।’
নর্থ বেঙ্গল মোটর্সের মালিক আয়ান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ছাড় ও সহজ কিস্তির অফার দিয়েও ক্রেতা পাচ্ছি না। গত তিনদিনে একটি বাইকও বিক্রি হয়নি। কর্মচারীরা কার্যত অলস সময় কাটাচ্ছে। এখন প্রয়োজন ছাড়া কেউ নতুন বাইক কিনতে চাইছে না। তেলের সংকট কবে কাটবে—এই অনিশ্চয়তাই বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।’
যমুনা মোটর্সের বিক্রয়কর্মী সোহাগ মিয়া বলেন, ‘ঈদের আগে ভালোই বিক্রি ছিল। কিন্তু ঈদের পর হঠাৎ করেই সব থেমে গেছে। ক্রেতারা এসে এখন দাম জিজ্ঞেসও করছেন না, সবার আগে চিন্তা তেল নিয়ে।’
সম্ভাব্য ক্রেতারাও দোটানায় পড়েছেন। আরিফুল হক নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বাইক কিনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন ভাবছি কিনব না। তেলই যদি ঠিকমতো না পাই, তাহলে বাইক রেখে কী করব?’
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকেরা জানান, তেলের সংকটের কারণে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাইক ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে সাইকেল বা গণপরিবহণ ব্যবহার করছেন। এতে মোটরসাইকেলের দৈনন্দিন ব্যবহার কমে গিয়ে বাজারেও প্রভাব পড়ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিক্রি কমে যাওয়ায় তারা আর্থিক চাপে পড়ছেন। শোরুম ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও ব্যাংক ঋণের কিস্তি মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ছোট শোরুমগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।