কক্সবাজার: জেলার সদর উপজেলায় পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের আরেক বন্ধু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া বাজার এলাকায় খরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন- ঝিলংজা ইউনিয়নের মুক্তারকুল এলাকার মো. রিসান (১৯) ও একই ইউনিয়নের দরগা এলাকার মো. আরাফাত (২১)। আহত মো. সানি (১৯) একই ইউনিয়নের মুক্তারকুল গ্রামের বাসিন্দা। তারা তিনজনই বন্ধু এবং মোটরসাইকেল আরোহী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে দরগা এলাকা থেকে কক্সবাজার শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে খরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিন আরোহী সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিসান ও আরাফাতকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সানিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি একটি ইজিবাইক (টমটম) ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা পিকআপটি তাদের চাপা দেয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ট্রাফিক আইন মেনে চললে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।’ তিনি কিশোরদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রামু হাইওয়ে ক্রসিং থানার পরিদর্শক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর পিকআপ চালক পালিয়ে গেছেন। তবে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’
কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন দু’টি হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।