গাইবান্ধা: আইনগত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদ এলাকায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় বাঘাআইড় মাছ। গত ২০ দিনের ব্যবধানে বিশালাকৃতির দুটি বাঘাআইড় মাছ ধরা পড়ে। পরবর্তীতে সেগুলো স্থানীয় বাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।
স্থানীয়রা জানান, ধরা পড়া মাছ দুটি আকারে বেশ বড় হওয়ায় বাজারে তা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। উচ্চমূল্যে বিক্রির আশায় কিছু অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই মাছগুলো বাজারজাত করেন। অথচ আইন অনুযায়ী এ ধরনের মাছ শিকার, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘাআইড় বাংলাদেশের একটি মহাবিপন্ন প্রজাতির মাছ, যা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ২ নম্বর তফশিলে রয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ মাছের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু অবৈধ শিকার ও বাজারজাতকরণের কারণে প্রজাতিটি বিলুপ্তির মুখে পড়েছে।
আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত এ মাছ শিকার বা বেচাকেনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবুও বাস্তবে আইনের প্রয়োগে শিথিলতা থাকায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগ রয়েছে, নদীবেষ্টিত এই জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে মাছ শিকারে নিয়োজিত শতাধিক জেলে থাকলেও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় তাদের কখনই সচেতনতামূলক কর্মসূচির আওতায় আনা হয়নি।
সদর উপজেলার কামারজানী ঘাটের জেলে শামসুল হক ( ছদ্মনাম ) জানান, আমরা অশিক্ষিত মানুষ কোন মাছ ধরা যাবে না, সে বিষয়ে কখনো কেউ জানায়নি। বাগোর (বাঘাআইড়) মাছ অনেক বড় হওয়ায় ভালো দামে বিক্রি করা যায়। আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম এই মাছ শিকার করা নিষেধ।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তীর গাইবান্ধা’ শাখার সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘প্রশাসনের চোখের সামনেই এসব মাছ বিক্রি হচ্ছে। যারা ধরছে, বিক্রি করছে ও কিনছে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নইলে এই মাছ একসময় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।