কক্সবাজার: মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে দীর্ঘ ১১ মাস স্থবির থাকার পর কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন নৌ পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘টেকনাফ স্থলবন্দর কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ছিল না। তবে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ ছিল।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে আজ থেকে বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় সচল করা হয়েছে। ব্যবসায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিএন্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সমন্বয়ের মাধ্যমেই সীমান্ত বাণিজ্য পরিচালিত হবে।’
এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিমন্ত্রী টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় নাফ নদীসংলগ্ন স্থলবন্দরে পৌঁছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি বন্দর এলাকার ওয়ারহাউসসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘বন্দর সচল করতে এরই মধ্যে ব্যবসায়ী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, কাস্টমস, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সবার সম্মতিতেই কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে।’
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, ‘বন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকলেও এতদিন কিছু নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতা ছিল। বর্তমানে পণ্য আমদানি-রফতানিতে বড় কোনো বাধা নেই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম সচল রাখা হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিব উদ্দিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের জেরে গত বছরের এপ্রিলে সীমান্ত বাণিজ্য কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় নাফ নদের মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচলেও বাধা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া, পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন (চাঁদা) দাবির অভিযোগে আরাকান আর্মির বাধার মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ক্ষতির মুখে পড়েন শতাধিক আমদানি-রফতানিকারক।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও সোমবার মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুতই বাণিজ্য কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।