গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদে নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় বালাসী লঞ্চ টার্মিনাল হুমকির মুখে পড়েছে। নদটির ডান তীরে অবস্থিত প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল থেকে মাত্র ১৫ মিটার দূরে ভাঙন পৌঁছে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্লক ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ এ এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। প্রথম ধাক্কায় টার্মিনালসংলগ্ন প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়। এরপর কয়েক দিন আগে আরও প্রায় ৪০ মিটার জায়গা ভেঙে পড়ে। ধারাবাহিক এ ভাঙনে টার্মিনাল ছাড়াও আশপাশের দোকানপাট, গুদামঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়েছে।
ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনই নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে। এতে অনেকেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে স্থায়ী স্থাপনা সরানো সম্ভব না হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
বালাসীঘাট এলাকার ব্যবসায়ী রেজাউল করিম জানান, ‘প্রতিদিনই নদী কাছে চলে আসছে। যেভাবে ভাঙন বাড়ছে, তাতে বর্ষা এলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।’
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জরুরি ভিত্তিতে তীররক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনালসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভাঙন রোধে আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এরইমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’
উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বালাসী ফেরিঘাট টার্মিনালটি ২০২১ সালে নির্মিত হয়। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ এলাকায় দু’টি আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। তবে নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই ভাঙনের মুখে পড়ায় অবকাঠামোটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা শুরু হলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোত আরও তীব্র হবে এবং তখন ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই উজান ও ভাটিতে দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন তারা।