হিলি: দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও স্বল্প সময়ে অধিক ফলনের কারণে কৃষকদের মধ্যে এ উচ্চমূল্যের সবজি চাষে আগ্রহ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত বাজারদর না পাওয়ায় চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গাউসুল আজম পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করেছেন। তিনি জানান, এবার ফলন বেশ আশাব্যঞ্জক হয়েছে। তবে বিপত্তি বেঁধেছে বাজারজাতকরণ নিয়ে।
গাউসুল আজম বলেন, ‘আমি প্রায় ১ লাখ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম। ফলন ভালো হলেও স্থানীয় বাজারে ঢাকার তুলনায় দাম অনেক কম। সরাসরি বড় শহরগুলোতে পাঠাতে না পারায় লাভের অংকে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।’

অন্যদিকে চাষি মেরাজ হোসেন ২০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকামের আবাদ করেছেন। তিনি আশাবাদী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লক্ষাধিক টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন। উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তায় চাষাবাদ সহজ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ক্যাপসিকামের ভালো ফলন দেখে আশপাশের কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। স্থানীয় কৃষক সোহেল হোসেন জানান, কম সময়ে ভালো ফলন হওয়ায় আগামী মৌসুমে তিনিও এ চাষে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে ভালো বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলে চাষাবাদ আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আরজেনা বেগম জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উচ্চমূল্যের সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের সবজি আবাদ হয়েছে এবং ফলন খুবই ভালো। তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। যদি আধুনিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তবে আগামীতে এ অঞ্চলে ক্যাপসিকাম চাষের পরিধি আরও বাড়বে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।’