কক্সবাজার: মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের বান্দরবান সীমান্তে পৃথক অভিযানে সম্ভাব্য অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) এবং বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় নাশকতা ও চোরাচালানের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এসব উদ্ধারকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রামু সেক্টরের আওতাধীন নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার টারগুপাড়া সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায় বিজিবির একটি টহল দল। এ সময় ৪ থেকে ৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ব্যাগসহ চলাচল করতে দেখে তাদের চ্যালেঞ্জ করে বিজিবি। এ সময় তারা ব্যাগ ফেলে পাশের পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ৫টি সম্ভাব্য অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৫টি আইইডি, একটি মেটাল ডিটেক্টর, একটি সোলার প্যানেল, শুকনা খাবার, একটি মোবাইল ফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক এবং কিছু সিভিল পোশাক উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি নিশ্চিত করে, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়। ঝুঁকি এড়াতে ওই স্থানে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিমের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের বাইশফাঁড়ি এলাকায় বিজিবির একটি টহল দল পৃথক অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় দাহ্য পদার্থ উদ্ধার করে। জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩ কেজি দাহ্য পাউডার, ৩ কেজি মেপোক্স (মিথাইল ইথাইল কিটোন পারক্সাইড), ৩ রোল নাইলন কাপড় এবং ৩ লিটার দাহ্য রাসায়নিক তরল।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া রাসায়নিক পদার্থ পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় আইইডি ও মাইন স্থাপনের ঝুঁকি এবং দাহ্য রাসায়নিক চোরাচালানের প্রবণতা দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বিদ্যমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি অবহিত করেন, এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবি গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো, নিয়মিত টহল জোরদার এবং সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।