গাইবান্ধা: জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঁওতালদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ ৩ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুইজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে স্বজনরা।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বাগদা ফার্ম অফিসের ২০০ গজ পশ্চিমে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- রয়েল মার্ডির মেয়ে শিউলি মার্ডি (২৫), লুকাশ মুর্মু (৭০) ও নিমাইয়ের স্ত্রী মামুলী হাশদা (৩৪)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ভূমি সুরক্ষা আইনে বাগদা ফার্মের জমি সাওতাল বাঙ্গালীদের ফেরতের দাবীতে বিক্ষোভের জন্য বাগদা ফার্মের অফিসের সামনে যাচ্ছিল ‘বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি’র ফিলিমন বাস্কের নেতৃত্বে একদল সাঁওতাল নারী-পুরুষ। তারা বিক্ষোভস্থলের ২০০ গজ পূর্বে পৌঁছালে ওই কমিটির অপর একটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে শিউলি মার্ডি, লুকাশ মুর্মু, নিমাইয়ের স্ত্রী মামুলী সহ ৩ জন আহত হন। পরে স্বজনরা আহতদের মধ্যে শিউলি মার্ডি ও মামুলি হাশদাকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। অপরজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।।
বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির নেতা জয়পুর পাড়ায় ফিলিমন বাস্কে জানান, আমরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য ফার্মের সামনে যাচ্ছিলাম। পৌঁছার আগেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়। তার অভিযোগ, জাফরুলের নেতৃত্বে স্বপন, সাবুসহ অন্যরা এই হামলা চালায়। তিনি জানান, আমরা গত শনিবারও একটি প্রতিবাদ সভা করেছি। আমরা যাতে আন্দোলন না করতে পারি সেজন্য ইপিজেডের দালালেরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফিলিমন বাস্কে।
এ বিষয়ে জাফরুল ঘটনাস্থলে না থাকার দাবি করে বলেন, ‘আমি শহরে আছি ফোনে ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছি। যা হয়েছে খারাপ হয়েছে। এসময় ফিলিমন বাস্কের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সম্প্রতি কমিটি হয়েছে তিনটা। কার লোকজনের মধ্যে ঘটনা ঘটেছে দেখতে হবে।’
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আশিক ইকবাল বলেন, সাঁওতাল দুজন নারী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে তারা আশঙ্কাজনক নয়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, তাদের দুই পক্ষের মধ্যে একটা ঘটনা ঘটেছে। ফোন কলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।
উল্লেখ্য, গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকলের ১৮৬২ একর জমি বাপ দাদার সম্পত্তি দাবি করে জমির মালিকানার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালরা। তাদের সাহেবগঞ্জ ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি নামে একটি কমিটিও রয়েছে। সম্প্রতি সাঁওতাল নেতা ফিলিমন বাস্কে ও জাফরুলের নেতৃত্বে ওই কমিটি ভেঙে দুই ভাগ হয়।