সিরাজগঞ্জ: সারাদেশের মতো সিরাজগঞ্জেও বেড়েছে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব। হামের উপসর্গ নিয়ে মালিহা বিনতে মাহফুজ (১৭) মাসের এক শিশু ঢাকায় চিকিৎসাধী অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৪ জন শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।
মালিহা বিনতে মাহফুজা উল্লাপাড়ার বাঙ্গালা ইউনিয়নের ভয়ানগর গ্রামের মো. মুকুল হোসেনের মেয়ে ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সবিতা প্লাবনী সুইটির নাতনি।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকার শ্যামলী শিশু হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য বিভাগের।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের (২৯ মার্চ) থেকে হাম রোগী কাউন্ট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় ৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৪ জনে। এসব রোগী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ৭৭ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
বর্তমানে মনসুর আলী মেডিকেলে ১৫ জন, সদর জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, উল্লাপাড়ায় ২ জন ও রায়গঞ্জে ২ জন বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, কাজিপুরে ১, রায়গঞ্জে ২, তাড়াশে ১ ও শাহজাদপুর ১ জন ভর্তি রয়েছে।
এছাড়াও খাঁজা ইউনুস আলী মেডিকেল হাসপাতালে ৬ জন ভর্তি রয়েছে। হামের রোগীর সংখ্যা বাড়ায় শহিদ এম মনসুর আলী হাসপাতালে খোলা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মালিহার মৃত্যুর বিষয়টি উল্লাপাড়া উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সবিতা প্লাবনী সুইটি বলেন, হামে আক্রান্ত হলে মালিহাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে উল্লাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শ্যামলী শিশু হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। ২০ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর আজ সকালে মালিহার মৃত্যু হয়।
শিশুটির মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় এলাকাবাসী শিশুটির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের (পরিসংখ্যান কর্মকর্তা) মো. হুমায়ুন কবির জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। হামের লক্ষণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে শুনেছি। তবে সেটা ঢাকার বিষয়। জেলায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দিনদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ায় শহিদ এম মনসুর আলী হাসপাতালে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে।