ঢাকা: রাজধানীর মধ্যবাড্ডা ইউলুপ ব্রিজের ওপর সিএনজির ধাক্কায় নিহত মোটরসাইকেল আরোহীর পরিচয় জানা গেছে। তার নাম ফাহিম (১৭)। সে উত্তর বাড্ডা সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে মরদেহটি শনাক্ত করেন ফাহিমের বাবা আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, ‘উত্তর বাড্ডা বাগান বাড়িতে নিজেদের বাসা আমাদের। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে ফাহিম ছিল বড়। সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণিতে পড়তো সে। বিকেলে এক ফোন কলে ছেলের দুর্ঘটনার সংবাদ পাই। এর পর ঢাকা মেডিকেলে এসে ছেলের মরদেহ দেখতে পাই।’
আব্দুল হালিম বলেন, ‘এক মাস আগে ছেলের জোরাজুরিতে মোটরসাইকেলটি কিনে দিই। আজ সেই মোটরসাইকেলেই ছেলের মৃত্যু হলো। সকালে আমরা একসঙ্গে বাজারে যাই। বাজার করে এসে দুপুরের দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয় ফাহিম। কোথায় যাবে তা জানি না। জানতে পেরেছি মোটরসাইকেলে ফাহিমের এক বন্ধু ছিল। তবে তার বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি।’
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে মধ্যবাড্ডা ইউলুপ ব্রিজের ওপর সিএনজির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় ফাহিম। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় পথচারীরা ওই শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সাড়ে ৩টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে পথচারী মো. বাদশা মিয়া বলেন, ‘মধ্য বাড্ডা ইউলুপ ব্রিজের নিচে আমরা থাই গ্লাসের দোকানে কাজ করি। হঠাৎ একটি শব্দ পেয়ে উপরে উঠে দেখি একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ওই যুবক আহত হয়ে পরে আছেন। আরও এক যুবককে লোকজন আরেক সিএনজিতে উঠিয়ে দিচ্ছে। এর পর এই যুবককে একটি সিএনজিতে করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত বলে জানান।’
বাদশা আরও বলেন, ‘ইউলুপের উপরে উঠে জানতে পারি, একটি সিএনজি মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গেছে।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি বাড্ডা থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে ।