Tuesday 07 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পরিসংখ্যানের ‘কল্পিত বাস্তবতা’ থেকে বেরোতে হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৫৮ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫৪

ঢাকা: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে পরিসংখ্যান নিয়ে একটি কল্পিত বাস্তবতা তৈরি করে দেশের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল। ফলে পরিসংখ্যান ও বাস্তবতার মধ্যে যে ফারাক তৈরি হয়েছিল, সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আয়োজিত অর্থনৈতিক শুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য যতই অস্বস্তিকর কিংবা আনপ্লেজেন্ট হোক না কেন, পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য আমাদের সত্যকে গ্রহণ করতে হবে। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্যের স্বচ্ছতায় পরিসংখ্যান ও বাস্তবতার মধ্যে যে ফারাক তৈরি হয়েছিল, সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে। তথ্য গোপন করে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শুমারির সময়ের ব্যবধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের তথ্য ২০২৬ সালে এসে জানানোয় সময়ের একটি বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। তথ্যের এই গ্যাপ কমাতে ১০ বছরের বদলে আরও কম সময়ে শুমারি করার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।

জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি বলেন, এবারের রিপোর্টে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বাড়লেও দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এসব শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে আছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কেবল রফতানির ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে একটি বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প নিবন্ধনের জটিলতা কমিয়ে উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে। এ জন্য ট্যাক্স নেট সম্প্রসারণ করে আয় বাড়ানো এবং ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সেই সঙ্গে বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং এ জন্য প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি ও উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিগ ডেটা, জিও স্পেশাল প্রযুক্তি এবং রিয়েল টাইম ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে পরিসংখ্যানকে আরও নির্ভুল করতে হবে। এ ছাড়া ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণে মেগা প্রজেক্টের চেয়ে টেকসই ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতির দিকে সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। এখন লক্ষ্য কেবল বড় স্থাপনা তৈরি করা নয়, বরং এমন একটি বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি দাঁড় করানো যেখানে প্রতিটি মানুষের জীবনে সত্যিকার উন্নতি আসবে। এ জন্য সঠিক তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিবিএস-কে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পেশাদার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে যাতে দেশের সকল নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া সম্ভব হয়।

সারাবাংলা/এফএন/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর