চট্টগ্রাম: সদ্য শেষ হওয়া বছরজুড়ে উত্তাপ থাকলেও, সবজি ও ডিম-মুরগিসহ আরও কয়েকটি পণ্যে চট্টগ্রামের ক্রেতাদের স্বস্তি দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বছর। তবে মাছ-মাংস, মুদিপণ্য, চালে অস্বস্তি এখনও রয়ে গেছে।
বছরের প্রথমদিনে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর কাজির দেউড়ি বাজার এবং বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকানে দর যাচাই করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজারে শীতকালীন সবজি ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। বেগুন, ফুলকপি-বাঁধাকপি, মূলা প্রতিকেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো, শিম, শালগম ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল, দেশি পটল, দেশি গাজর, দেশি শসা, ছোট করলা, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, কচুর লতি, কচুরমুখী, লাউ, চালকুমড়া প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের নতুন আলু ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শীতকালীন লাল শাক-পালং শাকসহ অন্যান্য সব ধরনের শাক আঁটি প্রতি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দামও স্থিতিশীল আছে একমাসেরও বেশিসময় ধরে। প্রতি ডজন ব্রয়লার মুরগির লাল ডিম ১১০ টাকা, সাদা ডিম ১০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ১৬০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন প্রকারের মুরগির দামও স্থিতিশীল আছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা, আকারভেদে সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, পাকিস্তানি কক ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, দেশি মোরগ ৭০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি হাঁস প্রতিকেজি ৩৫০ টাকা এবং চীনা হাঁস ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরায় পেঁয়াজের দামও কেজিতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা কমেছে। বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা, নতুন ফলনের দেশি পেঁয়াজ আকারভেদে ৮০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, চায়না আদা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ভারতীয় আদা মানভেদে ১৫০ থেকে ১৬০ দরে বিক্রি হয়েছে।
সামুদ্রিক মাছের ভর মৌসুমেও দামে স্বস্তি মিলছে না। বাজারে কোরাল মানভেদে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, লাল পোয়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, সাদা পোয়া ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাইট্যা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, আইড় ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা, লইট্যা ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, রূপচাঁদা ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সাগরের ছোট চিংড়ি প্রতিকেজি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সাগরের মিশেল মাছ ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মাছের মধ্যে রুই ও কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, নাইলোটিকা ২২০ থেকে ২৮০ টাকা, পাঙাশ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

বাজারে সরু, মাঝারি ও মোটা– তিন ধরনের চালের দাম সামান্য বেড়েছে। খুচরায় প্রতি কেজি সরু বা মিনিকেট চাল মানভেদে ৭৮ থেকে ৮২ টাকা, নাজিরশাইল মানভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা। মাঝারি বা ব্রি-২৮ ও পাইজাম জাতের চালের কেজি বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬৬ টাকায়। মোটা বা গুটি স্বর্ণা জাতের চালের কেজি ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা।
মুদিপণ্যের মধ্যে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেল ১৭২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোট মসুর ডাল ১৪০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১২০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৪৫ টাকা, খেসারি ডাল ৯০ টাকা, বুটের ডাল ৬০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা, মাষকলাই ডাল ১২০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১১০ টাকা ও খোলা চিনি ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজির প্যাকেট আটা ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১২০ টাকা, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৭২ টাকা, কৌটাজাত ঘি ১৪৫০ থেকে ১৫৫০ টাকা, খোলা ঘি ১২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মশলার মধ্যে এলাচ প্রতিকেজি ৪৭৫০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ টাকা, লবঙ্গ ১২৮০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১৩৫০ টাকা ও কালো গোলমরিচ ১১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে