চট্টগ্রাম ব্যুরো: মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষদিনে চট্টগ্রামের ৭টি আসনে মোট ১৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থীও আছেন। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ১০১ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে ৪২টি।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে নগরীর তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। আর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার চারটি আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) এবং চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেদায়েত উল্যাহ’র তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৮ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ৯ জনের মধ্যে দুজনের বাতিল হয়েছে। তারা হলেন- সিপিবির মো. সেহাব উদ্দীন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজাদ চৌধুরী। সেহাব উদ্দীনের জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রের সইরের সঙ্গে কমিশনে জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রের সই না মেলায় তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বিএনপির এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতের আবু নাছের ও এনসিপির জোবাইরুল ইসলামসহ সাতজনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে মোট ১২ জনের মধ্যে ৪ জন বাদ পড়েছেন। এদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক দ্বৈত নাগরিক্ত সংক্রান্ত জটিলতায়, হলফনামায় সই ও আয়কর রিটার্নের কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী আবদুল মোমেন চৌধুরী, খেলাপি ঋণ, সিটি করপোরেশনের বিল বকেয়া ও শিক্ষা সনদের মিল না থাকায় নাগরিক ঐক্যের নুরুল আবছার মজুমদার এবং দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের কারও সঠিক তথ্য না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলন কান্তি শর্মার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তবে বিএনপির আবু সুফিয়ান, বাসদের (মার্কসবাদী) শফি উদ্দিন কবির আবিদসহ ৮ জনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে ১১ জনের মধ্যে ৫ জনের বাতিল করা হয়েছে। বিএনপির সাঈদ আল নোমান, জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালীসহ ৬ জনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে হলফনামায় সই না থাকায় খেলাফত মজলিসের মো. আলী ওসমান, ভুল কোডে জামানতের টাকা জমা দেওয়ায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. ওসমান গণি, ফরম-১১ যথাযথ পূরণ না করায় জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরী এবং ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরমান আলী ও মো. ওমর ইউসুফ খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী), চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার একাংশ), চট্টগ্রাম-১৫(সাতকানিয়ার একাংশ ও লোহাগাড়া) এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই করা হয়।
জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনুল হাসান হাসানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৯ জন। এর মধ্যে বিএনপির সরোয়ার নিজাম ও জামায়াতের মাহমুদুল হাসানসহ ৭ জনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ছাড়া বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়পত্র জমা দেওয়া এবং নিজেই নিজের প্রস্তাবক হওয়ায় আলী আব্বাস এবং ঋণখেলাপি হওয়ায় গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম- ১৪ আসনে বিএনপির জসিম উদ্দিন, এলডিপির ওমর ফারুকসহ সাতজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এক শতাংশ ভোটারের সত্যতা না পাওয়ায় দুই স্বতন্ত্র মিজানুল হক চৌধুরী ও নুরুল আনোয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিনসহ তিন প্রার্থী সবার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপির বিদ্রোহী লেয়াকত আলী, জামায়াতের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামসহ ৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে হলফনামায় সই না করায় গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
১ জানুয়ারি থেকে বাছাই শুরুর পর তিনদিনে ২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। শেষদিনে রোববার ১৬ জনসহ বাতিলের সংখ্যা দাঁড়াল ৪২ জনে।
চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১৪৩ জন। ৪২ জনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় আপাতত ১০১ জন নির্বাচনি লড়াইয়ে থাকল। তবে বাতিল হওয়া প্রত্যেক প্রার্থী আপিলের সুযোগ পাবেন।