চট্টগ্রাম ব্যুরো: সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন-বিশৃঙ্খলায় জড়ালে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এননিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন কর্মসূচি শুরুর আগ মুহূর্তে এ ঘোষণা এসেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার তথ্য পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারা দিয়ে আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকার চুক্তি করতে যাচ্ছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে বিএনপিপন্থী দুই সংগঠনের শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেন। প্রথমে তারা বন্দর ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি বন্দর ভবন চত্বরে ঘুরে একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। বন্দর চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে তারা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের পর বিকেলের দিকে বন্দর ভবনের ফটকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিষয়টি উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় অফিস চলাকালে এনসিটি সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বন্দরের কিছু কর্মচারী ভবন চত্বরে মিছিল করেন। এ সময় তারা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেন এবং দলবদ্ধভাবে মহড়া দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।
সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সভা-মিছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯’ ও ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১’সহ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী সুস্পষ্ট পেশাগত অসদাচরণ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত না থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এনসিটি বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সাবেক সিবিএ।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্ত অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রেখে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করা হবে। একইভাবে পরদিন রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। রোববার বিকেল ৫টায় আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।
শ্রমিক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ধর্মঘটের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন ও পূর্ণ সহযোগিতা ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল শ্রমিক-কর্মচারীদের এ কর্মসূচিতে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্কপ। এ ছাড়া স্কপের পক্ষ থেকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।