Saturday 31 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সোমবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে জামায়াত আমিরের ৫ জনসভা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০১ | আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১২

চট্টগ্রাম মহানগরীর জনসভা হবে বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: পাঁচ জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারে কর্মসূচি নিয়ে চট্টগ্রামে আসছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে এসব জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, বিভাগীয় পর্যায়ে একটি বড় জনসভার চেয়ে দশগুণ বেশি মানুষের কাছে দলের বার্তা পৌঁছানোর পাঁচ স্থানে পাঁচটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। তবে প্রতিটি জনসভাই জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে নেতারা আশা করছেন।

দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, সোমবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৌঁছাবেন জামায়াতের আমির। কক্সবাজারে ২টি এবং চট্টগ্রামে ৩টি জনসভায় যোগ দিয়ে রাতে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

বিজ্ঞাপন

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জামায়াত আমির সোমবার সকাল ৯টায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে নতুনবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এবং সকাল ১০টায় কক্সবাজার পৌরসভার বাহারছড়া গোলচত্বরে মুক্তিযোদ্ধা মাঠে আলাদা দুটি জনসভায় বক্তব্য দিবেন।

এরপর চট্টগ্রামের পথে রওনা দিয়ে তিনি চট্টগ্রাম-১৫ আসনের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল ১১টায় আরেকটি জনসভায় বক্তব্য দিবেন। দুপুর ২টায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রাম-১১ আসনে নগরীর বন্দর হাইস্কুল ও কলেজ মাঠে সর্বশেষ জনসভায় বক্তব্য দেবেন।

মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘আমাদের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে প্রথম প্রোগ্রামের জন্য সরাসরি যাবেন সংগঠনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদের আসন কক্সবাজারের মহেশখালীতে। সেখান থেকে কক্সবাজার শহরে একটি জনসভায় আসবেন। সেখান থেকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়ায় আরেকটি জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন। সেটি শেষ করে উত্তর চট্টগ্রামের সকল আসনগুলো নিয়ে সীতাকুণ্ড হাইস্কুল মাঠে একটি জনসভা রয়েছে। সেই চতুর্থ জনসভায় তিনি যোগদান করবেন।’

চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় সর্বশেষ জনসভার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সীতাকুণ্ড থেকে সড়কপথে এসে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর আসনগুলোর জন্য নির্ধারিত একটি জনসভায় যোগ দেবেন। আমরা এই জনসভার ভেন্যু নির্ধারণ করেছি বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠকে। আমরা এটা বেছে নিয়েছি, কারণ জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর। যেহেতু এই বন্দর অনেকদিক থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে সর্বশেষ জনসভার ভেন্যুটা এখানে নির্ধারণ করা হয়েছে।’

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে পাঁচটি জনসভা শেষ করে রাতে জামায়তের আমির বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করবেন বলে শাহজাহান জানিয়েছেন।

মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে।

এদিকে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম অঞ্চল জামায়াতের উদ্যোগে আমিরের এ কর্মসূচি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভাগীয় পর্যায়ে একটি ‘বিশাল জনসভা’ না করে পাঁচটি আলাদা জনসভা আয়োজনের ব্যাখা দেন মুহাম্মদ শাহজাহান।

‘এটা ঠিক যে, খুবই কম সময়ের মধ্যে আমাদের ৫টি জনসভা কাভার করতে হবে। আমরা সেন্ট্রালি কোনো প্রোগ্রাম না নিয়ে এতগুলো জনসভা করার কারণ হচ্ছে, আমরা বেশি ভোটারের কাছে পৌঁছতে চাই। সেন্ট্রালি জনসভা করলে আমরা যাদের কাছে পৌঁছতে পারতাম, এখন এই পাঁচটি জনসভার মাধ্যমে দশগুণ মানুষের কাছে আমরা পৌঁছতে পারব বলে মনে করি। বেশি মানুষের কাছে পৌঁছার এই টার্গেটকে সামনে রেখে আমিরের কষ্ট হলেও, আমাদের ম্যানেজমেন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আমরা পাঁচটি জনসভা হাতে নিয়েছি।’

প্রতিটি জনসভাই জনসমুদ্রে পরিণত হবে, এমন আশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনসভাকে কেন্দ্র করে, আমিরের সফরকে কেন্দ্র করে সর্বত্র একটা সাজ সাজ রব আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের সকল নেতাকর্মী, সমর্থক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জনসভা সফল করতে মাঠে কাজ করছে। প্রতিটি জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে ইনশাল্লাহ।’

জামায়াত নেতা শাহজাহান আরও জানান, জামায়াতের উদ্যোগে জনসভার আয়োজন করা হলেও এতে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের বাকি ১০ দলের শীর্ষ নেতাদের এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

‘জামায়াতের আমির ইতোমধ্যে যেসব জনসভায় অংশগ্রহণ করেছেন, আমাদের নির্বাচনি ঐক্যের আরও যে ১০টি দল আছে, উনারাও উনাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছেন, জনসভায় উনাদেরও প্রতিনিধিত্ব ছিল। আমরাও আমাদের এই পাঁচটি জনসভায় আরও ১০ দল যারা আমাদের সঙ্গে নির্বাচনি ঐক্যের মাধ্যমে ১১ দলীয় জোট করে সরকার গঠনের মতো একটি সম্ভাবনা জাতির সামনে তৈরি করেছেন, আমাদের পক্ষ থেকে ১০ দলের নেতাদেরকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এই জনসভা শুধুমাত্র জামায়াতের জনসভা নয়, এটি ১১ দলীয় জোটের জনসভার ফ্লেভার লাভ করবে।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতেই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আছেন। তবে দুটি আসন শরিক দুটি দলকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ) আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) এবং চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) সমর্থন দিয়ে নিজেদের প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে দলটি। তবে পটিয়ায় এলডিপি প্রার্থী জামায়াতের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নিজেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর