চট্টগ্রাম ব্যুরো: প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদী থেকে একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। শরীর পচে যাওয়ায় সেটির মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করা যায়নি। তবে ডলফিনটির সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করবে মৎস্য অধিদফতর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার হালদা রিভার রিসার্স সেন্টার।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাস মুন্সিরহাট এলাকা থেকে ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
হাটহাজারী উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ শওকত আলী জানিয়েছেন, জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। তীরে তোলার পর মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে এর সুরতহাল সম্পন্ন করেন।
মৃত ডলফিনটির ওজন ২৫ থেকে ২৮ কেজি। দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে চার ফুট। পচন ধরে শরীর ফুলে প্রায় বিকৃত হয়ে গেছে। এটি অন্তত তিনদিন আগে মারা গেছে বলে মৎস্য কর্মকর্তার ধারণা।
ময়নাতদন্তের পর মৃত ডলফিনটিকে মাটিচাপা দেওয়া হবে বলে মৎস্য কর্মকর্তা শওকত আলী জানিয়েছেন।
গাঙ্গেয় প্রজাতির ডলফিনের বিচরণ আছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও হালদা নদীতে। ২০১৭ সাল থেকে কর্ণফুলী ও হালদা নদীর ডলফিন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন গবেষকরা। তখন থেকে হালদা ও কর্ণফুলীতে মৃত ডলফিনের সংখ্যা গণনা শুরু হয়।
এ নিয়ে গত নয় বছরে হালদা নদী থেকে অন্তত ৫০টি ডলফিনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি।
কর্ণফুলী ও হালদা নদীপাড়ের বাসিন্দারা স্থানীয়ভাবে একে হুতুম বা শুশুক নামে অভিহিত করেন। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) গাঙ্গেয় ডলফিনকে বিপন্ন হিসেবে লাল তালিকায় রেখেছে। ২০১২ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুসারে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।