Monday 16 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘আদালতের দেওয়া’ মেয়র পদ ছেড়ে ভোটের মাঠে যেতে চান শাহাদাত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০২

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো: আদালতের রায়ে পাওয়া পদ ছেড়ে নির্বাচনের মাঠে যেতে চান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি আরও চার বছর মেয়র পদে থাকতে পারবেন। কিন্তু, ভোটে গিয়ে তার গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে চান শাহাদাত। এ ছাড়া, নির্বাচিত কাউন্সিলরের অনুপস্থিতিতে সিটি করপোরেশনের কাজে নানা প্রতিবন্ধকতার জন্যও তিনি দ্রুত নির্বাচন চেয়েছেন।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর টাইগারপাসে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মেয়র শাহাদাত হোসেন এসব কথা বলেছেন।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠা এক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোটে বিজয়ী দেখিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করা হয়েছিল। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয়েছিল ৫২ হাজার ৪৮৯। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে রেজাউল করিমসহ নয়জনকে বিবাদী করে মামলা করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির তৎকালীন আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় মেয়রের দায়িত্ব পালন করছিলেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। অন্তর্বর্তী সরকার ১৯ আগস্ট মেয়র রেজাউল ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করে। এরপর ১ অক্টোবর শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে ওই মামলার রায় দেন আদালত। ৫ নভেম্বর তিনি মেয়রের দায়িত্ব নেন।

২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ। সে হিসেবে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মেয়রের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

কিন্তু আদালতের রায়ে পাওয়া মেয়র পদের মেয়াদ নিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি যদি চাই, আদালতের রায় অনুসারে আরও চার বছর থাকতে পারব ইনশল্লাহ। তাহলে চার বছর আমার মেয়াদ আছে।’

তবে নির্বাচিত পরিষদের হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, ‘২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমার যে মেয়াদটা আছে, আমি চাই যে সারা বাংলাদেশেই যেহেতু প্রশাসক আছে প্রতিটি সিটিতে, প্রতিটি শহরেই নির্বাচনটা হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

মেয়র পদে শাহাদাত আর থাকতে চান না জানিয়ে বলেন, ‘যেহেতু আমি একটি বৈধ নির্বাচন চাচ্ছি, সেহেতু আমি আর কন্টিনিউ করতে চাচ্ছি না। তবে আরেকটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সেকশন-সিক্স যাতে ফলো করা হয়। স্থানীয় সরকার আইনের সেকশন-সিক্সে স্পষ্ট বলা আছে, কোনো একজন বৈধ মেয়র, এটা প্রশাসকের ক্ষেত্রে নয়, একজন মেয়রের ক্ষেত্রে, তিনি পরবর্তী নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কাজেই আমি মনে করি যে, একটা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হোক। সেই নির্বাচনে আমি যখন প্রার্থিতা ঘোষণা করব, তখন আমি পদত্যাগ করে প্রচার শুরু করব।’

নির্বাচনের মাঠে গিয়ে নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার প্রায় ৩৭-৩৮ বছরের রাজনৈতিক জীবন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমাকে কী পরিমাণ লোক পছন্দ করে সেটা আমি জানি না। আমি ২০২১ সালে যে নির্বাচনটা করেছি, হাত-পা বেঁধে আমাকে নির্বাচন করতে হয়েছে। আমি আদালতে একটা মামলা করেছিলাম, যেহেতু ইভিএমে রেজাল্ট দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটা না দিয়ে তারা হাতে লিখে দিয়েছে, সেজন্য মামলা করেছিলাম এবং জয়ী হয়েছি। আমি মাত্র ৫৫ হাজারের মতো ভোট পেয়েছিলাম, এটা কিন্তু আমার আসল ভোট না।’

‘এখন প্রায় ২২ লাখ ভোটার আছে। একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে এবং সেই নির্বাচনটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তো, আমি আশা করব যে, আমাদের যে নতুন সরকার, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে হচ্ছে, সেই সরকারের অধীনে যে নির্বাচনটা হয়েছে তার চেয়ে আরও বেশি ক্রেডিবল একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হোক। সমস্ত দল সেখানে অংশগ্রহণ করুক, তাদের মতামত ব্যক্ত করুক, জনগণ নির্দ্বিধায় ভোট দিতে আসুক এবং আমার পক্ষ থেকে নির্বাচনকে আরও বেশি গণমুখী, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য যা যা করা দরকার, আমি সবই করব।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাকে কতটুকু পছন্দ করে আমি সেটা দেখতে চাচ্ছি। আমি যদি এক লাখ, দুই লাখ, তিন লাখ ভোট পাই কিংবা ৫০ হাজার ভোট পাই, তাহলে আমি বুঝতে পারব যে, এত লোক আমাকে পছন্দ করে। তাহলে আমি নিজের অবস্থানটা বুঝতে পারব, নিজে আরও শক্তি পাব।’

নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় চসিকের এলাকাভিত্তিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জনগণকে প্রকৃত সেবা দেওয়ার জন্য ইনফ্যাক্ট লোকাল কাউন্সিলররা যদি না থাকে, তাহলে এটা দেওয়া আসলে খুব কঠিন। আমি ১২ থেকে ১৪ মাস এ চেয়ারে আছি, আমি বুঝতে পারছি জনগণকে প্রকৃত সেবা দেওয়ার জন্য এলাকাভিত্তিক নির্বাচিত কাউন্সিলররা যদি না থাকে, তাহলে জন্ম নিবন্ধন থেকে শুরু করে, এনআইডি থেকে শুরু করে, ফ্যামিলি কার্ড যেগুলো আমরা দিচ্ছি সেগুলো, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, পর্যাপ্ত লাইট, ল্যাম্পপোস্ট, রাস্তা সংস্কার- এরকম প্রতিটি সার্ভিস পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে, মশক নিধন থেকে শুরু করে, প্রতিটি সার্ভিস দেখাটা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

‘আমি একা মানুষ, আমি বুঝতে পারছি যে কী পরিমাণ কঠিন সময় আমরা পার করছি। পুরো চট্টগ্রাম শহর আমাকে ঘুরতে হচ্ছে, সকাল থেকে রাত অব্দি আমাকে কাজ করতে হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমার জন্য একটা কঠিন জব। আমি একটা দল করি, দলের একটা সাপোর্ট আমি পাচ্ছি, কিছু পেশাজীবী আমার পাশে আছেন, যার কারণে আমি অন্যান্য সিটির চেয়ে ভালো সাপোর্টটা এখানে দিতে পারছি। কিন্তু পুরোপুরি সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য নির্বাচিত কাউন্সিলর অবশ্যই লাগবে।’

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর