ঢাকা: নেদারল্যান্ডসের উইথলোকালস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে একই নাম ও ডিজাইনে একটি ভুয়া ওয়েবপেজ তৈরি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানিয়েছে।
গ্রেফতার দু’জন হলেন- নরসিংদীর বৈয়ম বাজারের তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) ও জামালপুরের মেলান্দহের হৃদয় হাসান (২১)।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, অভিযুক্ত হৃদয় হাসান দীর্ঘদিন ধরে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে আসছিল। গতকাল বুধবার তৌহিদ ভূঁইয়াকে জামালপুর সদর থানাধীন স্টেশন রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে প্রতারণা চক্রের মূল হোতা হৃদয় হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, হৃদয় হাসানের কাছ থেকে জব্দকৃত স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা প্রায় ৩০টি ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণ করত। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত দুটি বাইনান্স অ্যাকাউন্ট ভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা হলেও ওই অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে অভিযুক্ত হৃদয় হাসানের বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত ছিল। হৃদয়ের স্মার্টফোনে ১৫টি কিউআর কোড রয়েছে, যার মাধ্যমে সে একাধিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে লগইন করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। হৃদয় নিজেকে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার দাবি করে ওয়েবপেজ ডেভেলপমেন্টের কাজ করার কথা বললেও বাস্তবে বিদেশি কোম্পানির ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণায় লিপ্ত ছিল। গ্রেফতার উভয় আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাইনান্স অ্যাকাউন্টের লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ৩০টি ব্যাংক হিসাবের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তথ্য, ভিকটিমের সংখ্যা এবং চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে গ্রেফতারদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রতারক চক্র নিজেদের তৈরি করা ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে ভিকটিমদের কাছে পাঠিয়েছিল। নিজেদেরকে ওই বিদেশি কোম্পানির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দ্রুত লভ্যাংশ প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে ভিকটিমদের নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন অংকের অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে। ভিকটিম প্রলুব্ধ হয়ে ওই ভুয়া প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করে। এভাবে ভিকটিমের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া যায়। ভিকটিম প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পল্টন থানায় গত ১ নভেম্বর মামলা দায়ের করে।