ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদা, অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, অধ্যাপক মশিউর রহমানে বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নিতি নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান সভায় সভাপতিত্ব করেন। সিন্ডিকেট সভায় অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আমলে নিয়ে চার্জ গঠন করেছি, একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাছে তারা প্রত্যেকে তাদের প্রতিনিধি দেবেন, প্রতিনিধিরা তাদের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একেবারে প্রথম ধাপ শুরু করেছি। অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী সাময়িক বহিষ্কার বা পরবর্তী পদক্ষেপ গৃহীত হবে।’ তদন্ত কমিটিতে কারা আছেন তাদের নাম পরে জানিয়ে দেওয়া হবে জানান তিনি।
এর আগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া, আন্দোলনে যেতে বাধা প্রদান, হুমকি এবং ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের তথ্য সরবরাহের অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত চার শিক্ষক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগপন্থী নীলদলের নেতা। এর মধ্যে সাদেকা হালিম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও মশিউর রহমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। পাঁচ আগস্টের পর তারা পদত্যাগ করেন।
পাঁচ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া চার শিক্ষককে বিভাগের শিক্ষার্থীরা বয়কট করেন। তাদের বহিষ্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন বিভাগে আন্দোলন করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। এর পর তাদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়।
এ ছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের যে দাবি জানানো হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সিনেট বরাবর সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর ডাকসু থেকে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচ স্থাপনা পরিবর্তনের দাবিতে উপাচার্যের অফিসের মূল ফটক আটকে বিক্ষোভ করেন ডাকসু নেতারা। এ সময় জুলাই অভ্যুত্থানে বিরোধিতাকারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানিয়েছিলেন তারা।