Tuesday 13 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু: পাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৯

মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

ঢাকা: উন্নত জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে অবৈধ পথে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় তিউনিশিয়া উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় ৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ।

তিনি বলেন, গত ১২ জানুয়ারি মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গুরুদাস বারই (৪৫) ও মো. মোতালেব মাতব্বরকে (৬৮) গ্রেফতার করা হয়। গুরুদাস বারইকে রাজৈর থানাধীন দক্ষিণ খালিয়া গ্রাম থেকে এবং মোতালেব মাতব্বরকে দামেরচর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মোতালেব মাতব্বরের বিরুদ্ধে এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর একটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সিআইডি প্রধান জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতাররা আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং পাচারকারীদের নির্দেশে অর্থ সংগ্রহ ও লোক জোগাড়ের কাজ করতেন। ভিকটিমদের বিদেশে পাচারের পুরো প্রক্রিয়ায় তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

ছিবগাত উল্লাহ বলেন, মানব পাচার চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিকটিমদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা নিয়ে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরে তাদের অবৈধভাবে লিবিয়া পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙ্গি নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে তিউনিশিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে গেলে ৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন— সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) ও ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।

নৌকাডুবির পর নিহতদের মরদেহ সরকারি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে আনা হয় এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার পর নিহত সজল বৈরাগীর বাবা সুনিল বৈরাগী (৫৯) বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মানব পাচার মামলা দায়ের করেন।

সিআইডি প্রধান আরও বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, অপরাধলব্ধ অর্থের লেনদেনের উৎস এবং পুরো মানব পাচার চক্রের নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সারাবাংলা/এমএইচ/এমপি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর