ঢাকা: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৯০৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা মূল্যের অস্ত্র-গহনাসহ ভিন্ন প্রকারের অবৈধ পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জব্দকৃত অবৈধ পণ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- ৬০ কেজি ৫৫৬ গ্রাম স্বর্ণ, ১৬৮ কেজি ২৪১ গ্রাম রৌপ্য, ১ লাখ ৭১ হাজার ১৯০টি শাড়ি, ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৭৯টি থ্রিপিস-শার্ট পিস-চাদর-কম্বল, ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৮টি তৈরি পোশাক, ১ লাখ ৫ হাজার ৩৭১মিটার থান কাপড়, ৬৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬১১টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ৯৮ হাজার ৭০৬টি ইমিটেশন গহনা, ২ কোটি ৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৪টি আতশবাজি, ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৮৯ কেজি চিনি, ৩৭ হাজার ৬১৮.৫ কেজি চা পাতা, ৩ লাখ ৫ হাজার ৪৩৮ কেজি পিঁয়াজ, ৭০ হাজার ২৯৩ কেজি রসুন, ২ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪৩ কেজি জিরা, ১ লাখ ৪০ হাজার ২৭৪ ঘনফুট কাঠ, ১৯ হাজার ৩০০ ঘনফুট পাথর, ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫২ কেজি কয়লা, ১৩টি কষ্টি পাথরের মূর্তি, ১ লাখ ২ হাজার ৯১২ কেজি সার, ৩৪ হাজার ৫৩১ প্যাকেট বিভিন্ন প্রকার বীজ, ৪ হাজার ২০১ লিটার ডিজেল-পেট্রোল-অকটেন, ৯ হাজার ১৩টি মোবাইল, ১ লাখ ২৩ হাজার ২৪৭টি মোবাইল ডিসপ্লে, ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬৯৪পিস চশমা, ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৮ পিস চকলেট, ১২ হাজার ২৯৪টি গরু-মহিষ এবং ১ হাজার ৭০৮টি বিভিন্ন প্রকার যানবাহন।
একই সময়কালে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ৬৪টি পিস্তল, ২টি এসএমজি, ১৯টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ১০টি রাইফেল, ৩টি রিভলভার, ৫৬টি বিভিন্ন প্রকার গান, ১,৫০৯টি গোলাবারুদ, ৫৭টি ম্যাগাজিন, ৮টি মর্টারশেল, ৭৩ হাজার ১০০টি সীসার গুলি, ২০.০৫ কেজি গান পাউডার, ৪টি মাইন, ৭৯টি হাত বোমা, ৪০টি পেট্রোল বোম, ১৭৮টি ককটেল এবং ২৫টি অন্যান্য অস্ত্র।
এদিকে, এই সময়ে বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। এ সময়ে ১ কোটি ৪৭ লাখ ১৪ হাজার ২৯৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০ কেজি ৪০৮ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৯৬ বোতল ফেনসিডিল, ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৪৬ বোতল বিদেশি মদ, ২ হাজার ৬৭৩ লিটার ৭৫ বাংলা মদ, ১২ হাজার ৬৭৮ ক্যান বিয়ার, ২২ হাজার ১৩৭ কেজি গাঁজা, ৫৫ কেজি ৬৩৬ গ্রাম হেরোইন, ১৩ কেজি ৬৪৭ গ্রাম কোকেন, ৮৪ বোতল এলএসডি, ৪ লাখ ২৬ হাজার ৭০৫টি অ্যানেগ্রা-সেনেগ্রা ট্যাবলেট, ১ লাখ ৫ হাজার ৭৬৫টি ইস্কাফ সিরাপ, ১ কোটি ১৪ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৩টি বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, ১৬৪৯ বোতল এমকেডিল-কফিডিল এবং ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৮২টি নেশা জাতীয় ও উত্তেজক ইনজেকশন।
এছাড়াও ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ আইসসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৩৩৪ জনকে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪২৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক, ১২৪ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৭,৩৬৮ জন মায়ানমার নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।