মুন্সীগঞ্জ: জেলার গজারিয়া উপজেলায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ডাকাত দলের ব্যবহৃত একটি দ্রুতগামী ট্রলার উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সদর দফতর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীন গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে তল্লাশি অভিযান চালায়।
অভিযানে রিয়াজ নামের এক ব্যক্তির বসতঘর থেকে ১টি দেশীয় শর্ট গান, ৩ রাউন্ড অ্যামোনিশন ও ৯টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া চর এলাকা থেকে নয়ন-পিয়াস ডাকাত দলের ব্যবহৃত একটি ট্রলার জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় রিয়াজকে পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, রিয়াজ গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের চিহ্নিত নয়ন-পিয়াস ডাকাত দলের অন্যতম সহযোগী। তার বিরুদ্ধে গজারিয়া থানায় একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বাবা আখতারের বিরুদ্ধেও ২৭টির বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। নয়ন-পিয়াসের অনুপস্থিতিতে আখতার ডাকাত দলের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় ডাকাত দলের বিভিন্ন আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন সোর্স জামাল হোসেনকে (৪৪) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নয়ন-পিয়াসকে না চেনার দাবি করলেও পরবর্তীতে তার কাছে পিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। পরে অধিকতর তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে গজারিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী জানায়, মুন্সীগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাসী, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি, যে কোনো সন্দেহজনক তথ্য নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে জানাতে স্থানীয় জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে।