Wednesday 18 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

দস্যু আতঙ্কে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ দুবলার চরের জেলেদের

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৯

অলস পড়ে রয়েছে জেলেদের নৌকা।

বাগেরহাট: বাগেরহাটের দুবলার চরের ১০ হাজারেরও বেশি জেলে বনদস্যু আতঙ্কে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছে।

এর আগে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে অপহৃত হওয়া ২০ জেলের সন্ধান মেলেনি এখনো।

দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাগর ও সুন্দরবনে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতঙ্কে দুবলার দশ হাজারের বেশি শুঁটকিকরণ জেলে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছে এবং মৌসুমের শেষে এসে তারা কী নিয়ে বাড়ি যাবে সে চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়ছে।’

অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়েই সুন্দরবনে দস্যুরা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে বলে তার দাবি।

বিজ্ঞাপন

সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর বাহিনী, সুমন বাহিনী, শরীফ বাহিনী ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে রেখে তারা মুক্তিপণ আদায় করছে। যারা টাকা দিতে পারছেনা, তাদেরকে বেদম মারধর করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে চারজন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে।

এ বিষয়ে আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোহতাসিম ফরাজী বলেন, ‘আগে প্রবাদ ছিলো ‘জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ’; এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে ‘সাগরে গেলে ডাকাত’। দস্যুদের তান্ডবে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের কব্জায় এখন কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছে। গেল সোমবার রাতে ২০ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় দস্যুরা তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। গত দুইদিনেও ওই ২০ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

এদিকে, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেষ্ট ষ্টেশন কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান জানান, বনদস্যু আতঙ্কে তাদের ষ্টেশন অফিস থেকে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না, যে কারণে তাদের মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরনের খারাপ প্রভাব পড়ছে।

সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর, রিপন হাওলাদারসহ কয়েকজন দোকানদার জানান, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর