পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় ‘কালাইয়া-দাসপাড়া নির্মাণ সামগ্রী মালিক সমিতি’-এর সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত যুবক শান্ত প্যাদা (২২) দাসপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন প্যাদার (৫৫) ছেলে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগের পর শান্ত ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় দফায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাকেও ডেকে নিয়ে দেশীয় ধারালো ছুরি বের করে হত্যার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে সে পালিয়ে যায়।
পরে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করে। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া ধর্মঘট চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত।
ধর্মঘটের খবর পেয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নেওয়ার আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালাইয়া ধান হাট সেতু সংলগ্ন দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৩২ জন ব্যবসায়ীর দোকান রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলার ও কার্গোতে করে রড, সিমেন্ট, বালু ও পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী এনে ব্যবসা করে। প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি ট্রলার ও কার্গো এখানে আসে। ওই ব্যবসায়ীদের থেকে প্রত্যেক ট্রলার ও কার্গো বাবদ এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয় শান্তসহ অন্যান্যরা।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা জানান, তারা গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে জরুরি সভা ডেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা আর চাঁদা দেবেন না। এরপর গত বৃহস্পতিবার সকালে শান্ত চাঁদা নিতে আসলে সভাপতি মোস্তাফিজ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তখন তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয় শান্ত।
মোস্তাফিজ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘শান্তর কাছে সব সময় অস্ত্র থাকে, এ কারণে ভয়ের মধ্যে আছি।’
তিনি অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিও জানান।
এ বিষয়ে শান্তর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বাবা সোহরাব জানান, দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর কাছ থেকে তিনি ৪০ হাজার টাকায় জলমহল কিনেছেন। এ কারণে তার ছেলে ট্রলার প্রতি দুইশো টাকা করে নেয়। তার দাবি, এটা কোনো চাঁদাবাজি নয়।
এদিকে, উপজেলা ভুমি কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালাইয়া ও দাসপাড়া খাল জলমহল হিসেবে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া, বিএনপি নেতা আলী আজমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মোবাইলফোন বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’