Tuesday 24 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর ‘পুলিশের হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানা ঘেরাও

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৮ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৫

শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিনসহ দুই দর্শনার্থীদের ওপর ‘পুলিশের হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেখানে পুলিশের এ হামলার প্রতিবাদে তিন দাবিও জানান তারা।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘হারুন গেছে যে পথে, মাসুদ যাবে সে পথে’, ‘আমার ভাইকে মারলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘শাহবাগ থানা জবাব চাই, আমার ভাইকে মারলো কেন’, ‘মাসুদের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাফিরা জাহান বলেন, ‘পুলিশসহ যেকোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্ন করতে পারা নাগরিক অধিকার। অনেক লম্বা সময় ধরে আমাদের এই নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। গতকাল নাইমের ওপর হামলা পুলিশের সবসময় করা ইগোভিত্তিক ভায়োলেন্সের অংশ।’

তিনি বলেন, ‘নাইম উদ্যানে হাঁটছিল, ওকে প্রশ্ন করা হয়েছে। নাইম দেখিয়েছে ওর কাছে কিছু নাই। নাইম কেন প্রশ্ন করছে পুলিশের কাছে, এ জন্য ওকে মারা হয়ছে। এটা কোন জায়গার ন্যায়? এর জবাবদিহিতা কে দিবে? আমরা কোনো জবাবদিহিতা চাই না। আমরা ডিসি মাসুদ ও তার বাহিনীর বিচার চাই।’

সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘সরকারকে আঙ্গুল চোষার জন্য ক্ষমতায় আনিনি। আপনারা ক্ষমতায় এসে এখন রাষ্ট্র সরস্কারে নামেন। আমাদের মারার জন্য পুলিশ নামালে; তার ফল কী হতে পারে- তা আপনাদের জানার কথা।’

থিয়েটার বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন করার জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো উঠে পড়ে লেগেছে। পুলিশ যখন এ ধরনের নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড করে, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ফেসবুকে ঠিক-বেঠিক লিখছে। কিন্তু আপনাদের মনে রাখতে হবে, আজকে এটা আমার সঙ্গে ঘটেছে। কালকে এটা আপনাদের সঙ্গে হবে।’

বিক্ষোভ শেষে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের আবদুল্লাহ হেল বুবুন। তিন দফা দাবি হলো-

ডিসি মাসুদসহ হামলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া।

ক্যাম্পাস এরিয়ার ভিতরে ও বাইরে সকল ধরনের পুলিশিং বন্ধ করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা।

এ ছাড়াও দুপুর ১২টায় রাজু ভাষ্কর্যের পাদদেশ বিক্ষোভ করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। এ সময় তারা পুলিশের হামলার প্রতিবাদ ও তাদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গতকাল রাতে পুলিশের মাধকবিরোধী অভিযানে দুই সাংবাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিনসহ কয়েকজন দর্শনার্থী পুলিশের মারধরের শিকার হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন— বাংলানিউজ২৪.কম-এর তোফায়েল আহমেদ (২৫) এবং আজকের পত্রিকার কাউসার আহমেদ রিপন (২৭)।

এ বিষয়ে নাঈম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘বহু ভাষার সন্ধ্যা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করছিলাম এবং ফেরার পথে পুলিশ আমাদের মুখোমুখি হয়। পরে তারা আমাদের কাছে অবৈধ কিছু না পেয়ে অভিযোগ তোলেন যে আমরা নাকি তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছি। আমার মাথা, হাত ও পায়ে চোট লেগেছে। আমার সঙ্গে থাকা আরও এক বন্ধুকেও তারা মেরেছে।’

সারাবাংলা/কেকে/এইচআই
বিজ্ঞাপন

৮৭ মিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:২৬

আরো