রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের বাসুখালী মাঠে ২৫ একর জমিতে ঘাস মারার বিষ দিয়ে পেঁয়াজখেত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৭শে ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদারসহ কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজক্ষেত পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় কৃষক আব্দুল করিম, বাদশা মিয়া, আনিসুর রহমান, বিরাজ শেখ, জাকির হোসেন ও রাজুসহ অনান্য কৃষকেরা সংসদ সদস্য হারুনের কাছে তাদের পেঁয়াজখেতের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বেশ কয়েকজন কৃষক কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজ চাষী আব্দুল করিম বলেন, ‘আমার বাড়ি কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নে। আমি কয়েক বছর ধরে এখানে পাঁচ একর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করি। এ বছর সুমন মিয়া, লিটন শেখ ও মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসের কাছ থেকে বছরচুক্তিতে জমি লিজ নিয়ে হালি পেঁয়াজ রোপণ করি। আর ২০ দিন পরেই পেঁয়াজ ঘরে তুলতে পারতাম। কিন্তু গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে আমার পাঁচ একর জমির পেঁয়াজ ঘাস মারা বিষ দিয়ে শেষ করে দিয়েছে। আমি সর্বশান্ত হয়ে গিয়েছি।’
এ ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় কৃষক আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমি ধার-দেনা করে ৬০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলাম। পেঁয়াজের ভালো ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। আমাদের পেঁয়াজখেতের সকল পরিচর্যা প্রায় শেষ পর্যায়ে। কয়েকদিন পর জমি থেকে পেঁয়াজ ঘরে তুলব। আমাদের পেঁয়াজখেতে ঘাস মারা বিষ দিয়ে সব শেষ করে দিয়েছে।’
এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা সুজিত দাস বলেন, ‘কৃষকরা বলছেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাসুখালী মাঠের প্রায় ২৫ একর জমিতে ঘাস মারার বিষ দেওয়া হয়েছে। এখনো পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছে না ক্ষতির পরিমাণ কতোটুকু। দু’একদিন অতিবাহিত হলে ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।’
বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকাদার বলেন, ‘বালিয়াকান্দি উপজেলার বাসুখালী মাঠে অনেক জমির পেঁয়াজ নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। থানায় এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’
সংসদ সদস্য হারুন বলেন, ‘রাজবাড়ীতে রাতের অন্ধকারে পেঁয়াজখেত নষ্ট করার বিষয়টি বেড়ে চলছে। এটা বড় কোনো ষড়যন্ত্র কিনা, তা আমরা পুলিশকে খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজবাড়ীর বিভিন্ন স্থানে ঘাস মারার বিষ অহরহ বিক্রি হচ্ছে। এই জায়গায় কৃষি বিভাগকে কাজ করতে হবে। অপরাধীরা যে কোনো দোকান থেকে কীটনাশক ক্রয় করতে পারছে। এভাবে তো চলতে পারে না।’ এ সময় ঘাস মারার বিষ বিক্রির ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।